নতুন ভোরের পথে বাংলাদেশ

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ফখরুল-খসরুদের সঙ্গে ঠাঁই পেলেন কায়সার-ফারমিনরা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ফখরুল-খসরুদের সঙ্গে ঠাঁই পেলেন কায়সার-ফারমিনরা

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষা আর অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসানে আজ এক নতুন দিগন্তের সূচনা করছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। 

মঙ্গলবার দুপুর গড়াতেই সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবারের মন্ত্রিসভায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের দাপট দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে তরুণ ও প্রথমবার নির্বাচিত হওয়া সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে বড় চমক দিয়েছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাই মূলত এই মন্ত্রিসভার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পাওয়া পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের মহাসচিব এবং রাজপথের ক্লান্তিহীন এই নেতা বড় কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সরকারে ফিরছেন। 

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে দক্ষ এই প্রবীণ নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ, দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং আইনি লড়াই শেষে দেশে ফিরে এবার মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হতে যাচ্ছেন তিনি।

এ ছাড়া অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চিকিৎসক নেতা এ জে এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, মো. আসাদুজ্জামান এবং নারী নেত্রী আফরোজা খানম রিতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এবারের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো একঝাঁক নতুন ও উদ্যমী প্রতিমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তি। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই যাঁরা মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁরা নতুন প্রজন্মের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

নেত্রকোনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য কায়সার কামাল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। আজ দুপুর সোয়া ১টায় তিনি নিশ্চিত করেন, তাঁকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, তার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। নাটোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও আঞ্চলিক উন্নয়নে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কুমিল্লার প্রভাবশালী নেতা জাকারিয়া তাহের সুমনও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক ফোন পেয়েছেন।

রাজপথের আন্দোলন এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় বিশেষজ্ঞ কোটাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। 

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান তাঁর অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় বিশেষজ্ঞ কোটায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। পুরো মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন।

বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে ভাগ করে নিতে বিশ্বনেতারা এখন ঢাকায়। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু আজ সকালেই পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিশেষ ফ্লাইটে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন। যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই শপথ অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছেন। 

বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজার খোলা আকাশের নিচে নতুন সরকার যখন শপথ নেবে, তখন তা হবে এক নতুন বাংলাদেশের পথচলা। দীর্ঘ দেড় দশকের প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে সুসংহত করাই হবে ফখরুল, খসরু ও কায়সারদের প্রধান কাজ।

প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর কায়সার কামাল বা ফারজানা শারমিনদের মতো তরুণদের উদ্যম, এই দুইয়ের মিশেলে বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় পৌঁছায় সেটিই এখন দেখার বিষয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের সেবক হওয়ার যে অঙ্গীকার, তার বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে আজ থেকেই।

জেএইচআর