সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে এবং গণভোটে সমর্থিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
শনিবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আগামীকালের মধ্যে যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
হামিদুর রহমান আজাদ দাবি করেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি। নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার বক্তব্যেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরও জানান, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদভিত্তিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আইনি পথ তৈরি করেছে। কিন্তু সরকার শুধু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন এখনও ডাকেনি।
১১ দলের অভিযোগ, জনগণের ভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব হলেও সরকার সেই জায়গা থেকে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে, যা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
আজাদ বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামীকাল ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে। এর মধ্যে যদি সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ না নেয়, তবে আমরা শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।
সংবাদ সম্মেলনে জনগণের ভোটাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশবাসীকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা স্পষ্ট করেন যে, দাবি আদায়ে তারা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের পথ বেছে নিতে দ্বিধা করবেন না।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন