দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দল পুনর্গঠনে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাষ্ট্র পরিচালনার নানামুখী ব্যস্ততার মাঝেও দলের মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলেও ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ঘিরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মূল দলসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তারেক রহমান। আগামী মাসে কৃষক দলসহ অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গেও তার বসার কথা রয়েছে, যাকে নতুন কমিটি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, দলীয় অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং নতুন নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান সবার সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং দ্রুতই এর অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
তাছাড়া বর্তমান সভাপতি হাসান জাফির তুহিন বর্তমানে সচিব পদমর্যাদায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও সক্রিয় করতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় যারা
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনের শীর্ষ পদে অতীতে আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শামসুজ্জামান দুদুর মতো হেভিওয়েট নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারও নতুন কমিটিতে আসতে একঝাঁক নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সভাপতি পদের জন্য আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম এবং বর্তমান সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহিম)।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি, এ্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের নাম বেশ জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, যদিও পরবর্তীতে আসনটি থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জোনায়েদ সাকিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদে চলে আসতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন