সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণকে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বিরোধী দলের বাজেট সমালোচনার বিষয়ে মন খারাপ করেছেন। কিন্তু আমরা কেন এই বাজেটের প্রশংসা করব? প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধ করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়নি। বাজেটের কত টাকা জনগণের উন্নয়নে ব্যয় হবে আর কত টাকা সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের পকেটে যাবে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। এটি একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত বাজেট, যা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। দেশে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সংস্কার নিশ্চিত না হলে এই দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সমাবেশে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে নতুন করে ব্যাংক দখল শুরু হয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এস আলমের গাড়িতে চড়ে কে সংবর্ধনা নিয়েছিলেন এবং কারা তাঁকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশের জনগণ ভালো করেই জানে। এ দেশের মানুষ এই দখলদারি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে গণভোটের রায় অনুযায়ী পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে। গতকাল শুক্রবারও চট্টগ্রামে একজন ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে। সরকার যদি আবার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে জনগণকেও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে হবে।
ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে আবারও এক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ এবং মাটি এক নয়; এর ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই হয়ে গেছে। ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালে বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি টিকে থাকতে পারবে না।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন