জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনকে নিয়ে এক ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি দাবি করেছেন, “কথিত আছে মনিরা শারমিন এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন।”
শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, মনিরা শারমিন ২০১৮ সালে আমাদের সঙ্গে কিছুদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। এরপর তাঁর কাছে ক্যারিয়ারই মুখ্য হয়ে ওঠে। কথিত আছে, তিনি এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন। এরপর তাঁকে আর অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে অনেকটা হাজিরা দিয়েই তিনি বড় নেত্রী বনে গেছেন। তাঁর চেয়ে নুসরাত তাবাসসুমদের ভূমিকা হাজার গুণ বেশি ছিল। শেখ হাসিনার পতন না হলে মনিরা শারমিনরা এখনো আরামে সরকারি চাকরি করতেন এবং ফ্যাসিবাদের আঁচড়ও তাঁদের গায়ে লাগত না।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও বর্তমান ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের পুরোনো এক বক্তব্য প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নুরুল হক নুর ২০১৯ সালে বলেছিলেন যে শেখ হাসিনার চেহারায় মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অবশ্য এর পরের দিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি হাসিনাকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়েছিলেন। এমনকি অসংখ্য বার হাসিনার পতন চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। যার ফলে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মী। সবশেষ জুলাই আন্দোলনের সময়ও নুরুল হক নুর রিমান্ডে ছিলেন। হাসিনার পতন না হলে নুরের কতদিন জেলে থাকা লাগত বা আদৌ তিনি মুক্ত হতে পারতেন কি না, তা বলা কঠিন।
তিনি আরও লিখেছেন, নুরুল হক নুরের যখন আর কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখনই ওই এক পুরোনো প্রসঙ্গ বারবার সামনে নিয়ে আসেন মনিরা শারমিনরা। অথচ সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে, এই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম উদ্যোক্তা সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুর। ক্রেডিট নেওয়ার অনেক উপায় থাকতে পারে, কিন্তু নুরুল হক নুরের অবদানকে অস্বীকার করে নিজেদের মহান করার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন, জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছেন, ততবার আমার মনে পড়ে পুরোনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম। কিন্তু তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে।” মনিরা শারমিনের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতার পক্ষ থেকে এমন পাল্টা মন্তব্য এল।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন