হান্নান মাসউদের বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, মুখোমুখি সরকার-বিরোধী দল

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম
হান্নান মাসউদের বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, মুখোমুখি সরকার-বিরোধী দল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদল মিছিল করেছে-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এরপর তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি তোলে বিএনপি, আর এর বিরোধিতা করে বিরোধী জোট।

রোববার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে বিরোধীদলকে নিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, বিরোধীদল মদের বা সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে-এ ধরনের বক্তব্যে তারা হতাশ হয়েছেন।

এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে সংসদে হইচই শুরু হয়। পরে হান্নান মাসউদ ব্যাংকঋণ ও ঋণখেলাপিদের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমেরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের কিছু মন্ত্রী ভারতের বিষয়ে এমন ভাষায় কথা বলছেন, যা অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

যে বক্তব্য থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

গত ১১ জুন বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলের ব্যানারে ‘গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে ‘বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা দেখা যায়।

পরে ১৩ জুন কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধীদল মদের ওপর কর বৃদ্ধি এবং সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন তথ্য দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এক্সপাঞ্জের দাবি, বিরোধীদের আপত্তি

হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক আপত্তি তুলে বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করা ওই মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করা উচিত।

তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্যের কোন অংশটি অসত্য তা স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধীদলের রয়েছে। গণতান্ত্রিক চর্চায় সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে, অন্যথায় ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে।

এর জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হান্নান মাসউদ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ‘অসত্য বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট অংশ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের কথা বলা হলেও সংসদে বিরোধী মত প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ আবার কথা বলতে চাইলে তাঁকে ফ্লোর দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন। তখন ডেপুটি স্পিকার মন্তব্য করেন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়। জাতীয় সংসদ।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদের বাইরে ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে কোনো সদস্যের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত না করার আহ্বান জানান।

এম জি