ডিসেম্বরে নেতাকর্মীসহ দেশে ফিরে ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ শেখ হাসিনার
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি তিনি হত্যার শিকারও হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তার পরও আমাকে ফিরতে হবে।" নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে এই সাক্ষাৎকারটিতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থা কেমন আচরণ করে, তা স্পষ্ট হবে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের তালিকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ নির্বাসিত আরও কয়েকজন নেতা রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন তারিখে বা কোন আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, তা স্পষ্ট করেননি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ চেষ্টার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিয়ে আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করছে; কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব। এই বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে গোপন আলোচনা করেননি বলেও দাবি করেন।
দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই তিনি কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন, "এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। অতীতেও একাধিকবার কারাবরণ করায় নিজের কারাবাস নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার আটক হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দি হন এবং মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফেরেন। আর ২০২৪ সালে দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বাসভবনের দিকে জনতার ঢল ও জীবনের হুমকির কথা উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ শাসনকাল প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। দল গোছানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে তিনি অনলাইনে বৈঠক করেছেন বলে জানান।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়ে থাকতে পারে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? যদি আমরা খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে সেই রায় জনগণই দিক।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন