পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরের তাসবীহ সমূহ

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:৪৫ এএম
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরের তাসবীহ সমূহ

নামাজ শেষ করার পর আল্লাহর স্মরণ করা (যিকির) সুন্নত ও খুব ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পরে কিছু নির্দিষ্ট তাসবীহ পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন, যেগুলোকে 'মাসনূন তাসবীহ' বলা হয়। এগুলো মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে, গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং রিজিক ও দুনিয়া–আখেরাতের বরকত বৃদ্ধি করে।

আস্তাগফিরুল্লাহ (৩ বার): করণীয়: নামাজ শেষ করে সালাম ফেরানোর পর প্রথমেই তিনবার বলা: 'আস্তাগফিরুল্লাহ' অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই।

ফজিলত: নামাজে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সংশোধনের জন্য এ ইস্তেগফার খুবই উপকারী। গুনাহ মাফের দরজা খুলে দেয়। আল্লাহর রহমত লাভ সহজ হয়।

আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম: করণীয়: ইস্তেগফারের পর পড়া: اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَام অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি শান্তির উৎস, শান্তি তোমার থেকেই আসে। তুমি বরকতময়, হে গৌরবময় ও মহানুভব।

ফজিলত: আল্লাহর প্রশংসা ও গৌরব প্রকাশ। দোয়া কবুলের পথ উন্মুক্ত হয়। তাসবীহ ফাতেমি- ৩৩/৩৩/৩৪ এটি সবচেয়ে সুপরিচিত যিকির।

করণীয়: ১. সুবহানাল্লাহ– ৩৩ বার, ২. আলহামদুলিল্লাহ– ৩৩ বার, ৩. আল্লাহু আকবার– ৩৪ বার।

ফজিলত: রাসুল(সা.) বলেছেন, এটি দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। ঘর-পরিবারে শান্তি, মনোবল বৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি আসে। নেকি বৃদ্ধি পায়; প্রতি শব্দে সওয়াব লেখা হয়।

আয়াতুল কুরসি: করণীয়: তাসবীহের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।

ফজিলত: রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে যাওয়ার আড়াল কেবল মৃত্যু। শয়তান ও বিপদ থেকে সুরক্ষা পায়। ঘর-পরিবারে বরকত নেমে আসে।

সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (প্রতিটি ১ বার): করণীয়: ফরজ নামাজের পরে তিনটি কুল একবার করে পড়া। ফজরের পর ও মাগরিবের পর এটি বিশেষভাবে মুস্তাহাব।

ফজিলত: সব ধরনের অনিষ্ট, জাদু, হিংসা, বদনজর থেকে রক্ষা। আল্লাহর বিশেষ হেফাজত লাভ।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু: করণীয়: বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের পরে ১০ বার বা ১ বার পড়া যায়। ا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير ফজিলত: আল্লাহ তায়ালা এক হাজার নেকি দান করেন (হাদিসে এসেছে)। শিরক থেকে দূরে রাখে, ঈমানকে শক্তিশালী করে। রিজিকে বরকত আসে, দুশ্চিন্তা দূর হয়।

নামাজ ও যিকির শেষ করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করা- হেদায়েত, রিজিক, স্বাস্থ্য, পিতা-মাতা, ক্ষমা, দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল।

ফজিলত: নামাজের পর দোয়া খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। মন থেকে যে দোয়া আসে, আল্লাহ তা কবুল করতে ভালোবাসেন।

তাসবীহ করণীয় ফজিলত: আস্তাগফিরুল্লাহ (৩ বার) নামাজ পরপর গুনাহ মাফ, ভুলত্রুটি সংশোধন তাবারকত… ইস্তেগফারের পর আল্লাহর প্রশংসা, দোয়া কবুল সহজ।

সুবহানাল্লাহ/আলহামদুলিল্লাহ/আল্লাহু আকবার ৩৩/৩৩/৩৪ বার দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। 

আয়াতুল কুরসি প্রতিটি ফরজের পর জান্নাত, সুরক্ষা, বরকত ও তিন কুল ১ বার করেসব অনিষ্ট থেকে রক্ষা।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ… ১ বা ১০ বার ঈমান শক্তিশালী, রিজিকে বরকতের দোয়া। শেষে দ্রুত কবুল হওয়ার সময়ও।

জেএইচআর