নিয়ত অর্থ মন থেকে দৃঢ় সংকল্প করা। নামাজের নিয়ত বলতে বুঝায়- কোন নামাজ, কত রাকাত, কোন অবস্থায় এবং কোন উদ্দেশ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করতে মনস্থ করা।
নিয়ত মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়; বরং হৃদয়ে উপস্থিত থাকা যথেষ্ট। তবে অনেকেই মনে স্থিরতা আনার জন্য মুখে উচ্চারণ করেন এটা জায়েজ।
নামাজ শুরুর আগে নিম্ন বিষয়গুলো মন থেকে স্থির করা উচিত- কোন নামাজ পড়ছি তা নির্দিষ্ট করা। যেমন- ফজরের ফরজ, যোহরের ফরজ, মাগরিবের ফরজ ইত্যাদি।
কত রাকাত হচ্ছে তা মনে স্থির করা, ৩ বা ৪ রাকাত যা আদায় করতে যাচ্ছেন। ফরজ, সুন্নত, নফল, ওয়াজিব কোনটি তা নির্ধারণ করা। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ। নিয়তে রিয়া (দেখানো), লোকলজ্জা বা বাহাদুরি যেন না থাকে।
ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো: নিয়ত করার জন্য ক্বিবলার দিকে সঠিকভাবে দাঁড়াতে হবে।
নামাজের নিয়তের নমুনা- নিয়তগুলো মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়। নিচের বাক্যগুলো হৃদয়ের নিয়ত বোঝাতে সহায়ক।
- ফজরের ফরজের নিয়ত: আমি দুই রাকাত ফজরের ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
- যোহরের ফরজের নিয়ত: আমি চার রাকাত যোহরের ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
- আসর ফরজের নিয়ত: আমি চার রাকাত আসরের ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
- মাগরিব ফরজের নিয়ত: আমি তিন রাকাত মাগরিবের ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
- ইশার ফরজের নিয়ত: আমি চার রাকাত ইশার ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
- জুমার নামাজের নিয়ত: আমি দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
- নফল নামাজের নিয়ত: আমি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
- তারাবির নামাজ: আমি দুই রাকাত তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
নামাজের নিয়ত পালনের নিয়ম
- মনোযোগ স্থির করা: নামাজের আগে অযু সম্পূর্ণ করে মনকে পরিষ্কার করা এটাই প্রথম পালনীয় বিষয়।
- ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো: নিয়ত করার জন্য সোজা হয়ে কিবলার দিকে দাঁড়ানো।
- তাকবিরে তাহরিমা বলা: হৃদয়ের নিয়তের পর 'আল্লাহু আকবার' বলে নামাজ শুরু করা।
- নিয়তে সন্দেহ না রাখা: নিয়তে দ্বিধা 'কোন নামাজ পড়ছি? থাকলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে।
ভাষা যাই হোক, হৃদয়ের সংকল্প: আরবিতে বা বাংলায় মুখে না বললেও চলে হৃদয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলেই যথেষ্ট।
নিয়ত করার ফজিলত ও গুরুত্ব: নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (বুখারি)
নিয়তের মাধ্যমে সাধারণ কাজও ইবাদত হয়ে যায়। যেমন- ঘুম, খাওয়া, রোজগার যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তা ইবাদত হয়ে যায়।
নিয়ত ভুল হলেও সওয়াব পাওয়া যায়: যদি কেউ কোনো নেক কাজ করার নিয়ত করে কিন্তু করতে না পারে, তবুও নিয়তের কারণে পূর্ণ সওয়াব পায়।
নিয়ত মানুষকে শির্ক ও রিয়া থেকে বাঁচায়: মানুষের প্রশংসা নয় শুধু আল্লাহর জন্য ইবাদত করা এটাই নিয়তের মূল উপকার।
নিয়তে খালেস হলে নামাজে মনোযোগ বাড়ে: নিয়ত মনকে প্রস্তুত করে, খুশু-খুজু সৃষ্টি করে। নিয়ত মানে হৃদয়ে স্পষ্ট সংকল্প করা। মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়, তবে বলতে চাইলে বলা যায়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহ গ্রহণ করেন না। নিয়ত কাজকে মূল্যবান করে, রিয়া থেকে বাঁচায়, সওয়াব বাড়ায়। প্রতিটি নামাজের নিয়ত নিজের ভাষায়ও করা যায়-শর্ত হচ্ছে সংকল্প পরিষ্কার হতে হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন