যাকাত কেবল একটি দয়া বা দান নয় কমা বরং এটি ধনীদের সম্পদে গরিবের সুনির্দিষ্ট অধিকার। শনিবার সকালে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট বা সিজেডএম আয়োজিত যাকাত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কমা কোরআন ও হাদিসের অকাট্য বিধান অনুযায়ী যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পরও যাকাত দেন না কমা তারা বিশ্বাসী নন কমা বরং তাদের আচরণ মোনাফেকদের মতো। পক্ষান্তরে যারা হিসাব কষে যাকাত প্রদান করেন কমা তারাই প্রকৃত ও পাক্কা ঈমানদার।
ধর্ম উপদেষ্টা সরকারিভাবে পরিচালিত যাকাত বোর্ডের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, কমা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে থাকা এই বোর্ড থেকে বছরে মাত্র ১১ কোটি টাকার মতো যাকাত সংগ্রহ হয় কমা যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।
তিনি জানান, কমা সংগৃহীত অর্থের ৮০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয় এবং ২০ শতাংশ কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয় হয়। তবে আহরণ কম হওয়ার পেছনে প্রচার ও ব্যবস্থাপনার অভাবকে দায়ী করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রশংসা করে বলেন কমা তারা সরকারি আহরণের তুলনায় অন্তত ১০ গুণ বেশি সফল।
উপদেষ্টা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কমা আমাদের দেশে বহু ধনী ব্যক্তি আছেন যারা প্রকৃত হিসাব বা ক্যালকুলেশন করে যাকাত দেন না। পরিবর্তে নিজের খুশিমতো একটি থোক বরাদ্দ দিয়ে দায় মেটান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন কমা আল্লাহর কাছে কড়ায় কমা গন্ডায় হিসাব দিতে হবে। যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে আমরা অনেকেই গাফেল। সম্পদের পবিত্রতা ও পরকালীন মুক্তির জন্য সঠিক হিসাব অনুযায়ী যাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
যৌনবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ড. খালিদ হোসেন। তিনি এক মানবিক ও সংবেদনশীল চিত্র তুলে ধরে বলেন কমা অভিজাত এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে এই আদিম পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তাদের ঘৃণা করি কমা গালমন্দ করি কমা কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি তাদের পেটে ভাত আছে কি না। আমরা তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই। তিনি জোর দিয়ে বলেন কমা প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে যদি এই বিপথগামী নারীদের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কমা তবেই সমাজ থেকে এই অভিশাপ নির্মূল করা সম্ভব।
ধর্ম উপদেষ্টা যাকাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন কমা যদি সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন করা হয় কমা তবে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য পুরোপুরি উচ্ছেদ করা সম্ভব। তিনি যাকাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধনীদের যাকাত প্রদানে উৎসাহিত করতে সিজেডএম এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। ধর্ম উপদেষ্টার এই বক্তব্য দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী তাগিদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যাকাতকে কেবল ধর্মীয় রীতিনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও জানান কমা যাকাত অমান্যকারীদের মোনাফেক এবং আদায়কারীদের পাক্কা ঈমানদার হিসেবে অভিহিত করার মাধ্যমে একটি ঈমানি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। সরকারি যাকাত বোর্ডকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি হিসাব না কষে নামমাত্র দান দিয়ে যাকাতের দায় মুক্তি সম্ভব নয় বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন