পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বারাআত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি রাত। এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে মগ্ন থাকেন। তবে এ মহিমান্বিত রাতকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল থাকে। এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হলো শবে বরাতের রাতে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মিলন বা সহবাস করা যাবে কি না।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক মিলন একটি বৈধ ও মানবিক চাহিদা। কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দিষ্ট কিছু সময় ও অবস্থা ছাড়া অন্য সব সময় স্বামী-স্ত্রীর মিলন জায়েজ। ইসলামে মূলত রমজান মাসের রোজার সময় দিনের বেলায়, নারীদের ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (নিফাস) চলাকালে এবং হজের ইহরাম বাধা অবস্থায় সহবাস করা হারাম বা নিষিদ্ধ।
শবে বরাত, শবে কদর কিংবা ঈদের রাতের মতো পবিত্র রজনীগুলোতে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ওপর শরিয়ত কোনো বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। ফলে এ রাতে মিলন করা গুনাহ বা পাপের কাজ নয়।
তবে মনে রাখতে হবে, শবে বরাত হলো ইবাদত ও ক্ষমা প্রার্থনার রাত। হাদিসে এ রাতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করেন।
আলেমদের মতে, শবে বরাতের মূল উদ্দেশ্য যেহেতু নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, তাই এ রাতে অহেতুক কাজে সময় ব্যয় না করে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকাই উত্তম।
মিলনের ফলে যদি কারও ফরজ গোসল করতে দেরি হওয়ার কারণে ফজরের নামাজ বা রাতের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি।
সারসংক্ষেপ হলো, শবে বরাতের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ নয়। তবে এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত বিবেচনা করে অধিক সময় ইবাদতে কাটানোই মুমিন মুসলমানের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন