পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ ইবাদত। এই মাসে মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি মনোযোগী থাকেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে রোজা রেখে কি বিয়ে করা যায়? এতে কি রোজার কোনো ক্ষতি হয়? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা।
ইসলামে বিয়ে একটি সুন্নত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআনুল কারিম-এ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে দাও...” (সুরা নূর: ৩২)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিয়ে একটি উৎসাহিত ও কল্যাণকর আমল। রমজান মাসে বিয়ে করার বিষয়ে কুরআনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
হাদিসেও বিয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “বিয়ে আমার সুন্নত; যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (ইবনে মাজাহ)। এই হাদিস বিয়ের ফজিলত নির্দেশ করে। রোজা অবস্থায় আকদ বা বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও শরিয়তে কোনো বাধা নেই।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস বৈধ নয়। কুরআনুল কারিম-এ বলা হয়েছে, “রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস বৈধ করা হয়েছে...” (সুরা বাকারা: ১৮৭)। অর্থাৎ, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সহবাস হারাম; তবে ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত বৈধ।
এ কারণে আলেমরা বলেন, রোজা রেখে বিয়ে করা সম্পূর্ণ বৈধ। দিনের বেলায় কেবল আকদ সম্পন্ন করা যাবে, তবে দাম্পত্য সম্পর্কের পূর্ণতা দেওয়া যাবে ইফতারের পর। রমজানে বিয়ে করলে ধর্মীয়ভাবে কোনো গুনাহ হয় না, বরং সরল ও সংযত আয়োজন হলে তা ইবাদতের পরিপন্থীও নয়।
সুতরাং, রোজা রেখে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত। তবে রমজানের মর্যাদা রক্ষা, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক এড়িয়ে চলা এবং ইবাদতে মনোযোগ বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন