শবে কদরের রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি?

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
শবে কদরের রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি?

রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) অত্যন্ত মহিমান্বিত, যার মধ্যে লুকিয়ে আছে পবিত্র শবে কদর। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয়ে অনেক সময় মুমিনদের মনে অস্পষ্টতা তৈরি হয়। বিশেষ করে শবে কদরের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মিলন বা সহবাস করা যাবে কি না এই প্রশ্নটি অনেকেরই।

কোরআনের সাধারণ মূলনীতি
পবিত্র কোরআনে রমজানের রাতে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলন তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

এই আয়াতের ওপর ভিত্তি করে ফকিহগণ বলেন, যেহেতু শবে কদর রমজানেরই একটি রাত, তাই এই রাতে সহবাস করা নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ নয়। তবে এই রাতের বিশেষত্বের কারণে আলেমগণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দিতে বলেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল ও হাদিসের নির্দেশনা
শবে কদরের রাতে সহবাস বৈধ হওয়া সত্ত্বেও নবী কারীম (সা.) এই সময়টিতে কেমন আচরণ করতেন, তা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।

১. ইবাদতের জন্য কোমর বাঁধা: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমজানের শেষ দশ দিন আসত, তখন নবী করীম (সা.) তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে নিতেন (ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতেন এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকতেন), নিজে সারা রাত জাগ্রত থাকতেন এবং তাঁর পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২০২৪)

মুহাদ্দিসিনদের মতে, এখানে 'লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধা'র অর্থ হলো ইবাদতে চূড়ান্ত মনোনিবেশ করা এবং পার্থিব সুখ-ভোগ তথা স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।

২. এতেকাফকারীর জন্য নিষেধাজ্ঞা: যদি কেউ রমজানের শেষ দশ দিন সওয়াবের আশায় মসজিদে এতেকাফ করেন, তবে তার জন্য সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। 

কোরআনে বলা হয়েছে, আর তোমরা যখন মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় থাকবে, তখন স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

কেন বিরত থাকা উত্তম? ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শবে কদরের রাতে সহবাস করা সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও এটি বর্জন করা 'উত্তম' বা 'আফজাল'। 

সময়ের মূল্যায়ন: শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই রাতের কয়েক ঘণ্টা ইবাদত করলে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়। সহবাস ও তৎপরবর্তী গোসল ও আনুষঙ্গিক কাজে যে সময় ব্যয় হয়, তাতে মূল্যবান ইবাদতের সময় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মানসিক একাগ্রতা: শবে কদর হলো আল্লাহর কাছে তওবা ও কান্নাকাটির রাত। সহবাসের ফলে মানুষের মানসিক অবস্থা ইবাদত থেকে জাগতিক আনন্দের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান: যেহেতু শবে কদর সুনির্দিষ্ট নয় বরং শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে, তাই মুমিনদের উচিত প্রতিটি বিজোড় রাতেই সর্বোচ্চ ইবাদতে মশগুল থাকা।

শরিয়তের চূড়ান্ত ফয়সালা হলো: শবে কদরের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মিলন হারাম নয়। যদি কেউ এই রাতে সহবাস করে ফেলে, তবে সে গুনাহগার হবে না। তবে সুন্নাতের অনুসরণ এবং এই রাতের বিশাল সওয়াব ও মর্যাদা হাসিলের উদ্দেশ্যে শারীরিক মিলন পরিহার করে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকাই মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ কাজ।

জেএইচআর