ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামর্থ্যহীন বা মধ্যবিত্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ঋণ বা ধার করে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ- এই তিন দিন যাদের কাছে ‘নিসাব পরিমাণ’ সম্পদ থাকে, তাদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। নিসাব হলো, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদে সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার পণ্য থাকা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো” (সূরা কাউসার)। ইসলামি আইনবিদদের মতে, এই নির্দেশ মূলত সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি না করার বিষয়ে কঠোর বাণী শুনিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।” (ইবনে মাজাহ)
তবে কারোর কাছে যদি কোরবানির দিনগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকে, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধ করার নিশ্চিত উপায় বা বাস্তব সামর্থ্য থাকে, তবে তিনি ঋণ নিয়ে কোরবানি দিতে পারবেন। ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ঋণ নিয়ে কোরবানি করা জায়েজ এবং তা আদায় হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকলে কিংবা ধার করার কারণে যদি পরিবার তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ইসলাম ঋণ নিয়ে কোরবানি করতে উৎসাহিত করে না। কারণ ইসলাম সহজতা পছন্দ করে এবং মানুষের ওপর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয় না।
আলেমদের মতে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া প্রকাশ করা। তাই লৌকিকতা পরিহার করে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনা করেই এই ইবাদত পালন করা উচিত।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন