ইসলামে ফুটবল খেলা ও পেশা হিসেবে নেওয়া কি জায়েজ?

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ইসলামে ফুটবল খেলা ও পেশা হিসেবে নেওয়া কি জায়েজ?

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যে খেলাই খেলুন না কেন, তা যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বিরোধী কোনো কাজের দিকে না নিয়ে যায়, তাহলে তা ইসলামে অনুমোদিত। ফুটবল যদি আপনাকে শারীরিকভাবে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজের কারণ না হয়, তবে ফুটবল খেলা মোটেও হারাম নয়।

কিন্তু ফুটবল খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিছু আলেম বলেন যে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলাকে বেছে নেওয়া বৈধ নয় এবং এটি সম্পূর্ণ হারাম।

তাঁদের মধ্যে একজন বিখ্যাত আলেম হলেন শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম। তিনি তাঁর ফতোয়া গ্রন্থে সতর উন্মুক্ত হওয়া, জামায়াতে নামাজ ছুটে যাওয়া, দলাদলি বা কোন্দল তৈরি হওয়া, আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি এবং অমুসলিম দেশে সফরে গিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কার মতো বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলাকে হারাম বলেছেন।

এই ফতোয়া প্রসঙ্গে ডা. জাকির নায়েক বলেন, “আমি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের সাথে অনেকখানি একমত, তবে পুরোপুরি নই। তিনি পেশা হিসেবে ফুটবলের যে স্তরের কথা বলছেন তা অনেক উঁচু পর্যায়ের, কিন্তু ঢালাওভাবে ফুটবল খেলাকে পেশা হিসেবে হারাম বলা- এই বিষয়ে আমি তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি।”

তিনি জানান, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার মানেই এটা নয় যে আপনাকে বিশ্বকাপ বা ইউরো কাপের মতো শীর্ষ স্তরেই খেলতে হবে। সাধারণ স্তরে যেমন বিভিন্ন স্থানীয় কোম্পানিতে বা কাস্টমস ও রেলওয়ের মতো সেক্টরে চাকরির অংশ হিসেবে ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে শায়খ ইব্রাহিমের বলা কারণগুলোর প্রভাব খুবই নগণ্য।

ডা. জাকির নায়েক বলেন, “সতরের ক্ষেত্রে, আপনি যদি একজন মুসলিম হন তবে আপনি খুব সহজেই বলতে পারেন যে আমি হাঁটু ঢাকা লম্বা শর্টস পরিধান করব। আর একটি ফুটবল ম্যাচ সাধারণত খুব অল্প সময়ের জন্য হয়, তাই নামাজ মিস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

তিনি কনস্ট্রাকশন বা বিক্রয়কর্মীদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, কাজের ব্যস্ততায় কেউ নামাজ না পড়লে যেমন সেই পেশাকে হারাম বলা যায় না, ফুটবলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, খেলোয়াড়রা যত উচ্চস্তরে বা আন্তর্জাতিক স্তরে যাবেন, গ্ল্যামার ও প্রলোভনের কারণে সব ফরজ বিধান মেনে চলা তত বেশি কঠিন হতে পারে।

উচ্চস্তরে স্পনসরশিপের মাধ্যমে হারাম পণ্যের প্রচারের একটি বড় সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে ডা. জাকির নায়েক ২০২১ সালের ইউরো কাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কোকাকোলার ক্যান সরিয়ে রাখা এবং মুসলিম খেলোয়াড় পল পগবার অ্যালকোহলের বোতল সরিয়ে রাখার ঘটনার উদাহরণ দেন। ওই ঘটনার পর ইউরো কাপ কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে যে, কোনো মুসলিম খেলোয়াড় ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় সামনে অ্যালকোহল রাখা হবে না।

ডা. জাকির নায়েক তাঁর নিজের স্কুলের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ক্রিকেট খেলা অনেক দীর্ঘ ও কম পরিশ্রমের হওয়ায় তিনি তাঁর স্কুলে ক্রিকেটকে উৎসাহিত করেননি, বরং ফুটবলকে উৎসাহিত করতেন। তবে তিনি কখনোই তাঁর সন্তানকে পেশাদার ফুটবলার হতে উৎসাহিত করেননি, কেবল সুস্থ থাকার মাধ্যম হিসেবেই এটিকে সমর্থন করেছেন।

পরিশেষে ডা. জাকির নায়েক তাঁর অভিমত পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “উচ্চ স্তরে বা আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি যদি এটিকে হারাম বলেন, তবে আমি তীব্র আপত্তি করব না, তবুও আমি বলব এটি মাকরূহ। কিন্তু আপনার শহরে বা আপনার এলাকায় ছোটখাটো কোম্পানির হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলা এবং তার জন্য পারিশ্রমিক পাওয়াকে আমি হারাম মনে করি না।”

সূত্র: ডাক্তার জাকির নায়েকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

এএন