বিশ্বকাপে সাফল্যের লক্ষ্যে ‘সর্বকালের সেরা’ দল নিয়ে ঘরের মাঠে নামছে কানাডা

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
বিশ্বকাপে সাফল্যের লক্ষ্যে ‘সর্বকালের সেরা’ দল নিয়ে ঘরের মাঠে নামছে কানাডা
কানাডা বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মেক্সিকো থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জনের মাঝে অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন যে, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আরও একটি সহ-আয়োজক দেশ রয়েছে-কানাডা।

কানাডাকে প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়, তবে আমরা তাতেই খুশি-বিবিসি স্পোর্টসকে এমনটাই বলেছেন কানাডিয়ান ফুটবল সাংবাদিক হার জোহাল। তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, আমরা শুধু হাসব, ভদ্রতা বজায় রাখব এবং আমাদের দক্ষিণের দেশগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো) সব খবর বা হেডলাইন কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেব।

তবে এই ভদ্রতার আড়ালেই রয়েছে কানাডার দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। এই গ্রীষ্মে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বড় অবস্থান তৈরি করতে চায় তারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের দলটি কানাডার ইতিহাসের অন্যতম সেরা পুরুষ ফুটবল দল। ঘরের মাঠে বোসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

যাতায়াত ও আবাসন নিয়ে স্বস্তি, তবে ব্যয়বহুল টিকিট ও হোটেল

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভেন্যুতে যাতায়াত খরচ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কানাডা এই ঝামেলা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত। ভ্যাঙ্কুভার এবং টরন্টোর স্টেডিয়ামগুলো শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় দর্শক ও দলগুলোর জন্য যাতায়াত সহজ হবে।

তবে টিকিটের দাম এবং ফিফার (FIFA) মূল্য কাঠামোর কারণে ব্যয় বেশি। একই সঙ্গে আবাসন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ভ্যাঙ্কুভারের ডাউনটাউনের হোটেলের ভাড়া প্রতি রাতে ১,০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, কিছু ক্ষেত্রে তা ২,০০০ ডলারেরও বেশি।

২০১০ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের তুলনায় এই বৃদ্ধি অনেক বেশি, যেখানে গড় ভাড়া ছিল প্রতি রাতে ৩৫৯ ডলার।

অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন শুরু

পুরুষ বিশ্বকাপে এটি কানাডার তৃতীয় অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে খেললেও এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে তারা। এই ম্যাচগুলোতে তারা মাত্র ২টি গোল করতে পেরেছে, বিপরীতে হজম করেছে ১২টি।

তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তারা দারুণ পারফর্ম করে আলোচনায় আসে। কিন্তু মূল পর্বে শক্তিশালী বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর গ্রুপে পড়ে তারা টিকতে পারেনি-যেখানে ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কো সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

ঘরের মাঠে নতুন আত্মবিশ্বাস

চার বছর পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে কানাডিয়ান খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বেড়েছে। ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনও তাদের বড় শক্তি।

সাংবাদিক হার জোহাল বলেন, টাইমিংটা অসাধারণ। কানাডিয়ান ফুটবলের ভিত্তি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই।

তিনি আরও বলেন, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের ইতিহাসের সেরা প্রজন্ম এবং সেরা কানাডা দল।

তারকাদের ওপর ভরসা

কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে টরন্টোতে বোসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। ঘরের মাঠের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তারা ভালো শুরু করতে চায়।

দলে আছেন বায়ার্ন মিউনিখে খেলা আলফোনসো ডেভিস এবং জোনাথন ডেভিডসহ ইউরোপে খেলা একাধিক প্রতিভাবান ফুটবলার। তাদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কানাডা গ্রুপ পর্ব পার হতে পারবে কি না।

লক্ষ্য পরিষ্কার-জয়

প্রচারের আলো বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে থাকলেও কানাডা নিজেদের হালকা করে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না।

হার জোহালের ভাষায়, আমরা হয়তো বিনয়ী, কিন্তু মাঠের ভেতর আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার-আমরা জিততে এসেছি।

এম জি