২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্য, আলো ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে সাজানো এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান শিল্পী সঞ্জয়ের যৌথ পরিবেশনা।
-20260612201335.jpg)
বিশ্বকাপের কানাডা-পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে। কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচ শুরুর আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মেক্সিকোতে একদিন আগে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও যৌথ আয়োজক হওয়ায় কানাডা নিজস্ব আয়োজনে বিশ্বকাপ উৎসবের সূচনা করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের গান ‘সির সির’ পরিবেশনা। আকর্ষণীয় ড্রাম বিট, আলোকসজ্জা এবং নৃত্যের সমন্বয়ে গানটি পরিবেশন করেন নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম ও সঞ্জয়। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা মুহূর্তেই স্টেডিয়ামে উৎসবের আবহ তৈরি করে।
বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এর আগেও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এবারও তার নৃত্য ও মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক ও শিল্পী সঞ্জয়ের অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দেয়।
ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিমও ছিলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রকাশিত তার জনপ্রিয় গান ‘রামিনেজ লা কুপ অ্যা লা ম্যাইসন’ বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দেশের প্রথম অধিবাসীদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিল্পী উইলিয়াম প্রিন্স। পরে লাল পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চে এসে বিশেষ পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
এরপর জনপ্রিয় কানাডীয় শিল্পী আলেসিয়া কারা ‘ওয়াইল্ড থিংস’ ও ‘ফায়ার’ গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেন। এছাড়া জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্না পরিবেশন করেন ‘ইলুমিনেট’, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম গান। অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলে।
আধুনিক আলোকসজ্জা, বিশেষ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের বৈশ্বিক বন্ধনের বার্তা দেওয়া হয় দর্শকদের।
-20260612201446.jpg)
বিশ্বকাপ উপলক্ষে টরন্টো শহরজুড়েও ছিল উৎসবের আমেজ। নেথান ফিলিপস স্কোয়ার বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়। সেখানে ছোট আকারের ফুটবল মাঠ, সমর্থকদের নানা আয়োজন এবং দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ দর্শকদের আকৃষ্ট করে।
এদিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে টরন্টোর বিএমও ফিল্ড। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৭৩৬ করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ চলাকালে টরন্টো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। আর সেই ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে আরও বেগবান করেছে। বিশেষ করে নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম ও সঞ্জয়ের পরিবেশনা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন