বিশ্বকাপ আসলেই ব্রাজিলের ভক্ত-সমর্থকদের এখনো তাড়া করে বেড়ায় মারাকানার সেই দুঃস্বপ্নের রাত। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি সেলেসাওদের।
তবে দীর্ঘ এক যুগ পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ব্রাজিল আবারও এমন এক রোমাঞ্চকর সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নকআউট পর্বেই তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির সঙ্গে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে ফুটবলবিশ্বে এই হাইভোল্টেজ মহালড়াইয়ের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি প্রথম ম্যাচের ফলাফল বিবেচনা করে এখনই প্রথম পর্ব শেষ হতো, তবে পরবর্তী রাউন্ডেই কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই একে অপরের মুখোমুখি হতো এই দুই পরাশক্তি।
ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্রীড়া পত্রিকা ‘ল্যান্স’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ব্রাজিল বর্তমানে তাদের গ্রুপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার পজিশনে না থাকলেও অন্যতম সেরা ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল হিসেবে নকআউটে জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার এই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ব্রাজিল জাতীয় দল তাদের গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা সরাসরি পরের রাউন্ডে যাওয়ার নিশ্চিত টিকিট নয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেবল প্রতিটি গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় দল সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করে।
তা সত্ত্বেও, গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল হিসেবে ব্রাজিল পরবর্তী রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করত। ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল।
এই ফলাফলের কারণে প্রথম রাউন্ড শেষে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় ব্রাজিল দ্বিতীয় সেরা অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যারা জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছিল।
অন্যদিকে, প্রথম রাউন্ডে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষে রয়েছে জার্মানি।
গ্রুপ পর্বে নিজ নিজ গ্রুপে তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দল কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তা ফিফা একটি জটিল গাণিতিক বিন্যাস বা কম্বিনেশনের মাধ্যমে আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এর জন্য মোট ৪৯৫টি সম্ভাব্য কম্বিনেশন বা সমীকরণ রয়েছে।
প্রথম পর্ব শেষে ১২টি দল তাদের গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করবে, যার মধ্যে সেরা ৮টি দল টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে এবং বাকি ৪টি দল বিদায় নেবে। তবে এই সেরা আট দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ র্যাঙ্কিং পরের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ নির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে না।
ফিফার এই সমীকরণ মূলত তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মূল গ্রুপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, টেবিলে তাদের পয়েন্ট বা অবস্থানের ওপর নয়। অর্থাৎ, তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে কেউ এক নম্বরে থাকল নাকি আট নম্বরে- সেটি দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ নির্ধারণে কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।
ব্রাজিল যে গ্রুপে খেলছে, সেই গ্রুপের তৃতীয় দলটির সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে পড়ার সুযোগ রয়েছে গ্রুপ ‘এ’, গ্রুপ ‘ই’ অথবা গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষ দলের- যা নির্ভর করবে অন্য কোন কোন গ্রুপ থেকে তৃতীয় দলগুলো নকআউটে উঠছে তার ওপর। সমীকরণ অনুযায়ী, ব্রাজিলকে মুখোমুখি হতে হতো গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষ দল জার্মানির।
প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাব্য সব ম্যাচ নিচে দেওয়া হলো:
- জার্মানি বনাম ব্রাজিল
- নরওয়ে বনাম নেদারল্যান্ডস
- দক্ষিণ কোরিয়া বনাম কানাডা
- সুইডেন বনাম মরক্কো
- কঙ্গো বনাম ঘানা
- উরুগুয়ে বনাম অস্ট্রিয়া
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম কাতার
- নিউজিল্যান্ড বনাম চেক প্রজাতন্ত্র
- স্কটল্যান্ড বনাম জাপান
- কোত দিভোয়ার বনাম ফ্রান্স
- মেক্সিকো বনাম স্পেন
- ইংল্যান্ড বনাম পর্তুগাল
- আর্জেন্টিনা বনাম সৌদি আরব
- অস্ট্রেলিয়া বনাম ইরান
- সুইজারল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম
- কলম্বিয়া বনাম ইকুয়েডর
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন