ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামেন। তবে বর্তমান যুগে এই প্রতিযোগিতা শুধু মাঠের গোল, অ্যাসিস্ট বা ট্রফির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফুটবলাররা এখন বিশ্বব্যাপী একেকজন বড় তারকা, যাঁদের রয়েছে বিশাল অনুসারী। মাঠের বাইরের যাপন থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ সেশন-সবকিছুই লাখ লাখ ভক্তের নজরে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের এই প্রভাব তাঁদের ব্র্যান্ড ও স্পনসরদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ জন ফুটবলারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো, যাঁরা মাঠের পাশাপাশি অনলাইন জগতেও আধিপত্য বিস্তার করছেন:
১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে মোট অনুসারী ৪৫ মিলিয়নের বেশি, যার মধ্যে ইনস্টাগ্রামেই রয়েছে ১৮ মিলিয়ন। স্কেচার্স ও ক্যাডবেরির মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত কেইনের বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় প্রায় ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার।
৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন): কিশোর বয়সেই স্পেনের এই তরুণ তারকার উত্থান অবিশ্বাস্য। বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ডের মোট অনুসারী ৫০ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রামে ৩৫ মিলিয়ন)। তাঁর বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ৮ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার।
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে): গোলমেশিন হালান্ডের মোট অনুসারী ৭০ মিলিয়নের বেশি, যার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে রয়েছে ৪০ মিলিয়ন। নাইকি ও বিটস বাই ড্রে-এর মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত এই স্ট্রাইকারের বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড): রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ২২ বছর বয়সী এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তাঁর মোট অনুসারী ৬০ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রামে ৪০ মিলিয়ন) এবং বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার।
৬. মোহাম্মদ সালাহ (মিশর): লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড তাঁর বিনয়ী স্বভাবের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সালাহর মোট অনুসারী প্রায় ৯৫ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রামে ৫৩ মিলিয়ন)। অ্যাডিডাস, পেপসি ও ভোডাফোনের মতো ব্র্যান্ড থেকে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার।
৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল): রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের এই তারকার গতি ও দক্ষতা তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করেছে। তাঁর মোট অনুসারী ৮০ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রামে ৫৫ মিলিয়ন) এবং নাইকিসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল ব্র্যান্ড থেকে বার্ষিক আয় ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এই ফরাসির মোট অনুসারী ২০০ মিলিয়নের বেশি, যার মধ্যে ইনস্টাগ্রামেই ১২৫ মিলিয়ন। নাইকি ও হাবলোর মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত এমবাপের বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার।
৩. নেইমার (ব্রাজিল): চোটের কারণে মাঝেমাঝে মাঠের বাইরে থাকলেও নেইমারের তারকাখ্যাতি কমেনি। পুমা ও রেড বুলের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত এই ব্রাজিলিয়ান তারকার মোট অনুসারী ৪৫০ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রামে ২৩০ মিলিয়ন) এবং বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি আছেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাঁর মোট অনুসারী ৮০ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে শুধু ইনস্টাগ্রামেই রয়েছে ৫০.৫ থেকে ৫১ কোটি। অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল ও হার্ড রকের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত মেসির বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ৫ কোটি ডলারের বেশি। ২০২৬ সালই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এমন ধারণার কারণে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চোখ এখন তাঁর দিকেই।
১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তায় সবাইকে ছাড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাঁর মোট অনুসারী ১১০ কোটির (১.১ বিলিয়ন) বেশি, যার মধ্যে শুধু ইনস্টাগ্রামেই রয়েছে ৬৬.৫ কোটির বেশি অনুসারী। নাইকি, বাইন্যান্স ও নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘সিআরসেভেন’ (CR7) থেকে তাঁর বার্ষিক এনডোর্সমেন্ট আয় ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা রোনালদো জনপ্রিয়তার বিচারে অনন্য উচ্চতায় রয়েছেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন