ভুবুঝেলার তীব্র আওয়াজ আর হাজারো মানুষের গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত চারপাশ- ‘আর্জেন্টিনা! আর্জেন্টিনা! মেসি! মেসি!’ বিশালাকার জায়ান্ট স্ক্রিনের আলো তখন নিভে গেছে, কিন্তু উপস্থিত সমর্থকদের উন্মাদনায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। চারদিকে শুধু আকাশী-নীল আর সাদার মেলা।
স্মরণ করা যাক গত ১৭ জুন ২০২৬-এর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির কথা। উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী এক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছিলেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসি। খেলা শেষের বাঁশি বাজার বহু পরও আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে জড়িয়ে, একে অপরের কাঁধে চড়ে তরুণদের সেই বাঁধভাঙা উল্লাস আর গান যেন এক অবিস্মরণীয় দৃশ্যের জন্ম দিয়েছিল।
দূর থেকে দেখলে যে কারোরই মনে হতে পারে, এটি হয়তো আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের কোনো চত্বর। কিন্তু না, এটি ছিল আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ১৭,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ফিলিস্তিন, লেবানন কিংবা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে যখন ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের উত্তাপ, তখন এই দক্ষিণ এশীয় বদ্বীপে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বইছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবেগের জোয়ার।

বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ প্রতি চার বছর পর পর যখনই আলবিসেলেস্তেরা মাঠে নামে, পুরো বাংলাদেশ যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় রাত জেগে বসে জায়ান্ট স্ক্রিন, ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে চলে ওয়ানাইটার ওয়াচ পার্টি, আর রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় আকাশী-নীল রঙে।
ম্যারাডোনার সেই জাদুকরী ১৯৮৬
ঢাকার ৫০ বছর বয়সী বাসিন্দা আবদুল হাইয়ের জন্য আর্জেন্টিনার প্রতি এই ভালোবাসা আজ নতুন নয়। মেসির যুগের বহু আগে থেকেই তিনি এই দলের পাঁজরভাঙা সমর্থক। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করে মোয়াজ্জেম বলেন, ১৯৮৬ সালে আমি ম্যারাডোনার প্রেমে পড়েছিলাম।
তখন আমি বেশ ছোট ছিলাম, কিন্তু চোখের সামনে দেখতাম মানুষ কীভাবে তাঁর জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছিল। তাঁর খেলার শৈলী, মাঠের ভেতরের আবেগ, অতিমানবীয় ড্রিবলিং- এমনকি সেই বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড'- সবকিছুই আমাদের এমনভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ম্যারাডোনা আমাদের কাছে স্রেফ একজন ফুটবলার ছিলেন না, তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি ও জাদুকর।
এরপর বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ট্রফিটি পেতে কেটে যায় দীর্ঘ ৩৬ বছর- যা ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে লিওনেল মেসির হাত ধরে পূর্ণতা পায়। মোয়াজ্জেমের ভাষায়, সেই দীর্ঘ অপেক্ষা সার্থক ছিল। মেসিকে যখন বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরতে দেখলাম, ফুটবল নিয়ে আমার আর কোনো আক্ষেপ রইল না। তাই ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপটি আমি আগের মতো কোনো ভয় বা উৎকণ্ঠা নিয়ে নয়, বরং গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি নিয়ে উপভোগ করছি।
ম্যারাডোনা ম্যাজিক এবং ব্রাজিলের কাউন্টার-ফোর্স
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক একজন খেলোয়াড় বিশ্লেষণ করেছেন কীভাবে আর্জেন্টিনার এই বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী বাংলাদেশে শিকড় গেড়েছিল। ঐ খেলোয়াড়ের মতে, এই উন্মাদনার প্রকৃত শুরু ১৯৮৬ সালে। ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক জয় এবং পরবর্তীতে ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ জয় বাংলাদেশের সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের মনস্তত্ত্বে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছিল। ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য একক গোলগুলো মানুষকে আর্জেন্টিনার দিকে টেনে নিয়ে যায়।
ঐ খেলোয়াড় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, তৎকালীন বাংলাদেশে পেলের দেশ ব্রাজিলের একটি বিশাল সমর্থক ভিত্তি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছিল, কারণ তারা ততদিনে একাধিক বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে ব্রাজিলের যোগ্য প্রতিপক্ষ বা ‘কাউন্টার-ফোর্স’। যারা ব্রাজিলকে পছন্দ করত না বা নতুন কোনো নায়কের সন্ধান করছিল, ম্যারাডোনা ছিলেন তাদের একমাত্র আশ্রয়।
খেলোয়াড় বিশ্বাস করেন, ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পরাজয় এই আবেগকে আরও মজবুত করেছিল। ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ার পর মাঠের ভেতর ম্যারাডোনার সেই কান্না বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। আর সেখান থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এক স্থায়ী রূপ নেয়, যা জার্মানি বা ইতালির মতো অন্যান্য পরাশক্তিরা শত চেষ্টা করেও এ দেশে কখনো তৈরি করতে পারেনি।
নতুন প্রজন্ম এবং 'মেসি ম্যানিয়া'
ম্যারাডোনার যুগ পেরিয়ে গেলেও বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের কাছে আর্জেন্টিনার মূল আকর্ষণ লিওনেল মেসি। বেসরকারি চাকরিজীবী শার্ট সাকলায়েন জানান, ম্যারাডোনার খেলা তিনি কখনো সরাসরি দেখেননি, তবে শৈশব থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার ভক্ত কেবল মেসির জাদুকরী ফুটবল গুণের কারণে।

উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ম্যাচ টাইমিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাঝরাতে কিংবা ভোররাতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখে আর্জেন্টিনা এখন শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে, যা বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু এই অসময়ও ফ্যানদের দমাতে পারছে না। তরুণ সমর্থক ছানোয়ার হেসে বলেন, "আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন আমার কোনো অ্যালার্ম ঘড়ির প্রয়োজন হয় না। প্রিয় দল যখন মাঠে নামে, আমার ঘুম এমনিতেই ভেঙে যায়। ছানোয়ার এই ফুটবল প্রেম উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং খেলা বোঝার পর থেকে নিজেই এই দলের প্রেমে পড়ে গেছেন।
উন্মাদনার মাত্রা কতটা তীব্র, তার প্রমাণ মেলে যুবরাজনীতি কর্মী নূর ইসলামের কাছে। তিনি তাঁর পোষা বিড়ালটিকেও আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের দলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। ভালোবেসে সেই বিড়ালের নাম রেখেছেন- 'মেসি'। অন্যদিকে কলেজ ছাত্র তানজিদ ও জিহাদের আত্মবিশ্বাস, এবারও বিশ্বকাপ ট্রফিটি মেসির হাতেই উঠছে।
ফুটবল কূটনীতি, বন্ধ দুয়ারের পুনরুত্থান
বাংলাদেশিদের এই নিঃশর্ত ফুটবল প্রেম কেবল গ্যালারি বা পাড়া-মহল্লাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ঢাকার বিভিন্ন পাবলিক স্ক্রিনিংয়ে সাধারণ সমর্থকদের সাথে বসে খেলা দেখছেন এবং গোল উদযাপনে শামিল হচ্ছেন।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা বিশ্ব মিডিয়ার মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সরকার ও জনগণের নজরে আসে। এর ফলশ্রুতিতে, ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস সরকার দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢাকায় পুনরায় তাদের স্থায়ী দূতাবাস চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ১৯৭৮ সালে দেশটির তৎকালীন সামরিক একনায়কতন্ত্রের সময় বাজেট ঘাটতির অজুহাতে এই মিশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই দূতাবাস খোলার পেছনে বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রয়েছে, তবুও উভয় দেশের কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন যে, ফুটবলই মূলত দুই দেশের মানুষকে এত কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং কূটনীতিকে বেগবান করেছে।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বিভাজন, পারিবারিক মনস্তত্ত্ব
ক্রীড়া সাংবাদিক রুহেল হাশেমীর মতে, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের এই তুমুল জনপ্রিয়তা আসলে বাঙালি সংস্কৃতির ‘নায়ক’ বা ‘প্রোটগোনিস্ট’ খোঁজার প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে এই দুটি দলই একক আধিপত্য দেখিয়েছে।
ম্যারাডোনা থেকে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো এবং বর্তমানে মেসি ও নেইমার- তারকারা সবসময়ই মানুষকে আকর্ষণ করেছে। বাঙালি জাতিগতভাবেই দলগত খেলার চেয়েও একক কোনো বীরকে বেশি ভালোবাসে।
এই ফুটবলীয় বিভাজন অনেক সময় একই পরিবারের মধ্যেও দেয়াল তুলে দেয়। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র তাইয়্যেব একজন কট্টর ব্রাজিল সমর্থক, যাকে তাঁর বড় ভাই আকাশ (আর্জেন্টিনা সমর্থক) জোরাজুরি করে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের র্যালিতে নিয়ে এসেছে।

রকি হাসতে হাসতে স্বীকার করেন, আমাদের বাসায় প্রায়ই এটা নিয়ে তর্ক হয়। কারণ আমাদের বাবা আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও মা কিন্তু ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে যখন মেসির হ্যাটট্রিক উদযাপন চলছিল, তখন এক কোণে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থক তরুণকে নিয়ে বন্ধুদের ট্রোলিং বা মজা করার দৃশ্যটিই বাংলাদেশের আসল ফুটবল চিত্র।
বাংলাদেশের নিজস্ব ফুটবল কোথায়?
এই বিপুল উন্মাদনা ও ভালোবাসার আড়ালে একটি বড় দীর্ঘশ্বাসও লুকিয়ে আছে, যা ক্রীড়া সাংবাদিক সোহেল বেশ ভাবিয়ে তোলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি এত আবেগ, এত ভালোবাসা, সেই দেশ কেন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বরে পড়ে থাকবে? কেন এই জাতীয় উন্মাদনা দেশের নিজস্ব ফুটবলের উন্নতিতে কোনো কাজে আসছে না?
সোহেল বলেন, যখন আমি আমাদের দেশের মানুষের এমন বাঁধভাঙা উল্লাস দেখি, আমার ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু একই সাথে আমার মনটা খারাপও হয়ে যায়। কারণ আমাদের এত প্যাশন বা আবেগ থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিজস্ব ফুটবল দল বা সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক মানের ধারেকাছেও নেই।
আমাদের দেশে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, উন্নত সুযোগ-সুবিধা নেই, কোনো ফুটবল একাডেমি বা তরুণ ফুটবলারদের তুলে আনার সঠিক পাইপলাইন নেই। তরুণরা খেলতে চায়, কিন্তু কীভাবে পেশাদার ফুটবলার হতে হয়, সেই পথটাই তারা জানে না।
সাবেক জাতীয় একজন কোচ এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একসময় ঘরোয়া ফুটবলের একটি দারুণ সোনালী অতীত ও সংস্কৃতি ছিল, কিন্তু আমরা পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করতে বা একটি সঠিক ফুটবল সিস্টেম বা কাঠামো দাঁড় করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি। তরুণেরা এখনই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার দাবি করছে না, তারা শুধু চায় দেশের ফুটবলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা।
সোহেল ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় এবং ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, সঠিক বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা থাকলে খেলাধুলা কীভাবে একটি পুরো জাতিকে এক সুতোয় বেঁধে পরম আনন্দ দিতে পারে, তা ক্রিকেট প্রমাণ করেছে। যদি খেলাধুলা দেশকে এত বড় গৌরব ও খুশি দিতে পারে, তবে দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কেন সরকার ও বেসরকারি খাত আরও বড় বিনিয়োগ করবে না?
১৭ হাজার কিলোমিটার দূরের আর্জেন্টিনার জন্য বাংলাদেশিরা হয়তো আজ রাতেও জেগে থাকবে, আকাশী-নীল পতাকায় রঙিন হবে ঢাকাসহ পুরো দেশ। তবে প্রতিটা ফুটবল ভক্তের মনের কোণে হয়তো এই সুপ্ত আশাটুকুও বেঁচে থাকবে- কোনো একদিন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে এ দেশের ছেলেরাও ফুটবল খেলবে, আর সেদিন ভুবুঝেলার আওয়াজটা হবে আরও শতগুণ তীব্র।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন