‘এখন পুরো বিশ্ব জানে কেপ ভার্দে কোথায়’

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
‘এখন পুরো বিশ্ব জানে কেপ ভার্দে কোথায়’

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কেপ ভার্দে রেখে গেছে দারুণ এক ছাপ। শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। আর সেই ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়েন দলটির অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। 

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- এখন পুরো বিশ্ব জানে কেপ ভার্দে কোথায়।

৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিলেন দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আলোচনায় আসেন তিনি। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকেও দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এত উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরও বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের পর ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব শিগগিরই ইউরোপের কোনো ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেতে পারেন এই গোলরক্ষক। অভিজ্ঞতা, দুর্দান্ত রিফ্লেক্স এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতার কারণে গোলরক্ষক সংকটে থাকা অনেক ক্লাবের জন্য তিনি হতে পারেন কার্যকর সমাধান।

ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও দলের অর্জন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন ভোজিনিয়া। তিনি বলেন, "কেপ ভার্দে কোথায়, সেটা এখন পুরো বিশ্ব জানে। আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি, আমরাও ফুটবল খেলতে জানি।"

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই কেপ ভার্দে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো পারফরম্যান্স করেছে। দলটির এই সাফল্যে গর্বিত অধিনায়ক বলেন, "অনেকেই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা সহজেই জিতে যাবে। কিন্তু আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছি এবং বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে কেপ ভার্দের জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য গর্বের।"

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে বাধ্য করে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলেও নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটাই উজাড় করে দিয়েছেন বলে জানান ভোজিনিয়া। তার ভাষায়, "আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। যারা এখনো টুর্নামেন্টে আছে, তাদের জন্য শুভকামনা।"

অধিনায়কের এই মন্তব্যই যেন পুরো টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের যাত্রার সারসংক্ষেপ। প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই তারা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয়নি, নিজেদের দেশের পরিচিতিও বিশ্বজুড়ে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে। 

এদিকে কেপ ভার্দের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিসির পরিচালক ও সাংবাদিক মার্কোস ফনসেকা মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, ভোজিনিয়ার মতো খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিয়েছে। তার মতে, মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভোজিনিয়া যেমন দেশের পর্যটন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছেন, তেমনি নিজের ক্যারিয়ারকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এখনো আলোচনায়। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব তার প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার পর খুব শিগগিরই কোনো ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করেন কি না এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

এএন