আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাট্টিন মারা গেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১২:২১ এএম
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাট্টিন মারা গেছেন

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার আন্তোনিও উবালদো রাট্টিন মারা গেছেন। শনিবার ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্তোনিও উবালদো রাট্টিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

রাট্টিন ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্টাইন জায়ান্ট বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে মূল দলে অভিষেক হওয়া রাট্টিন টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। বোকার হয়ে ৩৮২টি ম্যাচের সবকটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই ক্লাবটি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা জয় করে।

জাতীয় দলের হয়েও রাট্টিন ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন ১৯৬২ সালের চিলি ও ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি ছিল বিশ্বকাপে এবং তিনটি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের হয়ে একটি গোলও করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।

তবে ফুটবল ইতিহাসে রাট্টিন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাঁকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন (সে সময় কার্ডের প্রচলন ছিল না)। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাট্টিন মাঠেই প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করেন। মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা চেপে ধরা এবং রাজকীয় অতিথিদের জন্য রাখা লাল কার্পেটে বসে পড়ার ঘটনাটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাট্টিনের ওই প্রতিবাদী আচরণের পরই ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রথা চালু করা হয়। ‘এল রাতা’ ডাকনামে পরিচিত রাট্টিন তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে অসামান্য দক্ষতার জন্য চিরকাল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

জেএইচআর