বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অর্জনকে টেকসই করা জরুরি

স্বাধীনতার সময় মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শুধু বিদ্যুৎ খাতের ভিত্তি রচনা করেছিলেন তা নয়। ঘাতকের নির্মমতায় নিহত হওয়ার ঠিক আগে ব্রিটিশ গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ডে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন। যা দেশের জ্বালানির মূল চাহিদা মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এরপর ১৯৯৬ সালে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আবার বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেন। এরপর ২০০৯ সালে আবার শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর বিদ্যুৎ খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। এর ফলে গত এক যুগে বিদ্যুৎ খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালে ৪৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেত। এখন দেশে ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। চলতি মুজিববর্ষের মধ্যে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ১১ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা অনেকটা স্বপ্ন মনে হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই বছরের ডিসেম্বরে মুজিববর্ষের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের ফলেই মাত্র ১২ বছরেই বিদ্যুৎ খাতে বড় বিপ্লব ঘটেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবিশ্বাস্য উন্নয়নের রূপকার এবং স্বপ্ন দ্রষ্টাই হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোডশেডিং শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে এই শতভাগ বিদ্যুতের লক্ষ্য পূরণে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতাও ছিলো। এর মধ্যে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যুতের লাইন নেয়া ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আবার মানুষ নিজের গ্রাম, আদি নিবাস ছেড়ে ‘মাঠে-প্রান্তরে’ কিংবা নতুন সড়কের পাশে বাড়িঘর তৈরি করছে। ফলে বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদার জোগান দেয়ার পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিদ্যুৎ বিভাগকে এগোতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সাফল্যের দৃষ্টান্তও রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

 ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিলো ২৭টি। যা বর্তমানে ১৩৭টি। মাত্র ১২ বছরেই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ১১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে। ২০০৯ সালে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছিলো চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২৪ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াট। ১২ বছর আগে গ্রাহক ছিলো এক কোটি আট লাখ। বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। সঞ্চালন লাইন ছিলো আট হাজার সার্কিট কিলোমিটার, তা এখন প্রায় ১৪ হাজার সার্কিট কিলোমিটার। গ্রিড সাবস্টেশন ছিলো ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ, তা বেড়ে এখন প্রায় ৫০ হাজার এমবিএ। ২০০৯ সালে বিতরণ লাইন ছিলো দুই লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার। এখন প্রায় ৬ লাখ কিলোমিটার। ১২ বছর আগে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩০ কিলোওয়া ঘণ্টায়। এখন বিতরণ লস : ৯.৩৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ২০০৯ সালের আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতির উত্তরণে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার মিশ্র ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গ্যাসের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়। সরকার তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি কয়লা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোগ নেয়। সরকারের ধারাবাহিকতা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হয় এলএনজি আমদানি। নীতিমালা সহজ করায় বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাত ছিলো চরম অস্থিতিশীল। ওই সময় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন খুবই কম থাকায় দিন-রাত লোডশেডিং লেগেই থাকতো। দ্রুততম সময়ে চাহিদা ও উৎপাদনে ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়। এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ায় এ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এরপর সরকার মধ্যমেয়াদি ও পরে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দেয়। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে মিশ্র জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তেল-গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা এবং এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণ শুরু করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়।

বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোডশেডিং হওয়ার সুযোগ নেই। মূলত লোডশেডিং হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকলে একদিকে সংযোগ দিয়ে অন্যদিকে সংযোগ বন্ধ রাখা। উৎপাদন বেশি থাকায় সে অবস্থা আর নেই। তার পরও মাঝেমধ্যে লোডশেডিং হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘বর্তমানে দুটি বিষয়ের জন্য লোডশেডিং দেখা দেয়। একটি হলো— এখন সারা দেশে বিদ্যুৎ উন্নয়নে প্রচুর কাজ হচ্ছে, উন্নয়নকাজের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে হয়। সে কারণে কোনো একটি লাইনে কাজ হলে সেটাকে বন্ধ রাখলে ওই এলাকায় তখন বিদ্যুৎ থাকে না। দ্বিতীয় কারণ হলো— উৎপাদন ও গ্রাহক বাড়ছে কিন্তু ট্রান্সফিউশন ডিস্ট্রিবিউশন শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। সে কারণে কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো আরও চিহ্নিত করে কাজ করছি। আগামী এক মাস পর এগুলোও থাকবে না।’ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় একটি প্রসার হয়েছে। বর্তমানে ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম দিয়ে গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বায়ু বিদ্যুতের জন্য উইং ম্যাপিং হয়েছে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ বছরের মধ্যেই মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে নেবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। ফলে কমবে কার্বন নিঃসরণ ও সরকারি ভর্তুকি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং বিনিয়োগকারীদের সরকার বিভিন্ন প্রকার প্রণোদনা প্রদান করছে।

দেশে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে ওঠে ঢাকায়। বিংশ শতকের প্রথম বছর। আর এর আর্থিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ। ৭ ডিসেম্বর, ১৯০১ সালে প্রথম ঢাকার রাস্তায় বিদ্যুতের বাতি জ্বলে ওঠে। এর পূর্বে ১৯০১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা পৌরসভা কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয় যেসব রাস্তায় ও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে তার নাম। পৌরসভার অধীনে বিদ্যুৎব্যবস্থা সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য ‘দি ঢাকা ইলেকট্রিক ট্রাস্টি’ নামে পরিষদ গঠন করা হয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পাকিস্তান সরকার দেড় বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিলো এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। কিন্তু তখন দেশে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা ছিলো। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দিকে নজর দেয়নি। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবার বঙ্গবন্ধু রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে দেশে নতুন করে বিদ্যুৎ খাত পুনর্গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আবার দেশ পিছিয়ে যায়। তখন দেশে বিদ্যুতের সিস্টেম লস বেশি থাকায় দাতারা দেশের বিদ্যুৎ খাতে অর্থ দিতে চায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আইপিপি নীতি গ্রহণ করা হয়। তখন দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বার্জ মাউন্টটেন্ড বিদ্যুৎ নিয়ে আসা হয়। এ সময় সরকার ক্যাপটিভ নীতি করে শিল্পে বিদ্যুৎ দেয়া হয়। এরপর ২০০৯ সালে আবার বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তখন থেকে নানা রকম নীতির পরিবর্তন করে সরকার বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার করে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আজ বিদ্যুৎ খাত এবং দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর এখন সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত সরবরাহই বড় চ্যালেঞ্জ। সারা বিশ্বেই পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যুৎ সেক্টরেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। প্রথম দফায় ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ খাতের পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিলো। তখন সরকার বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এরপর ২০০০ সালে আবার জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ খাতকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এতে দেশটি ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে। তখন লোডশেডিংয়ের জন্য রাস্তায় মিছিল হয়েছে। ২০০৯ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করে। তখন আবার দেশ ভঙ্গুর অবস্থায় ছিলো। আর্থিক সংকট ছিল। কেউ বিনিয়োগ করতেও চায়নি। কিন্তু এপরও সরকারের উদ্যোগে দুই থেকে তিন বছরে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নীতিই বিদ্যুৎ খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। একবিংশ শতকের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উন্নয়নের গতি অনেকটাই হ্রাস পায়। সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দাতা সংস্থাগুলো থেকে বিনিয়োগের অভাবে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ সময় প্রতি বছর সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াটের মতো। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাস নাগাদ সারা দেশের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিলো প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট। লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ২০০৬ সালের মে মাস নাগাদ নাগাদ ১০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে এবং এ সময় সান্ধ্যকালীন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিলো ৪২০০ মেগাওয়াট। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ পরবর্তী বছর ১ হাজার ৬২৪ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এ সময় বিদ্যুতের দাবিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় আন্দোলন ঘটেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে। বিদ্যুতের প্রকট সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শহীদ হয়। একই সময় রাজধানীর শনির আখড়ায় হাজার হাজার এলাকাবাসী বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে এবং আন্দোলন গড়ে তোলে। ভবিষ্যৎ চাহিদা মাথায় রেখে পায়রা, মাতারবাড়ি, রূপপুর, রামপালে মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি খাতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ- হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে তেল সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। রামপালে মৈত্রী সুপার থার্মাল প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়। আমাদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান উন্নয়ন,অর্জনকে টেকসই করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নেও বর্তমান সরকারের ধরাবাহিকতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

 লেখক: সাংবাদিক

আমারসংবাদ/জেআই