Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে হচ্ছে আইন

আমিরুল ইসলাম

জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ১০:৩০ পিএম


প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও সুপেয় পানি সংরক্ষণের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কেউ আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার যে দিন থেকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কার্যকর করবে সেই দিন থেকে নতুন এ আইন বলবৎ হবে। 

ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া প্রস্তুত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেয়া হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের জন্য উপজেলা পরিষদের কাছ থেকে লাইসেন্স নেয়া বাধতামূলক করা হচ্ছে। গভীর, অগভীর, হস্তচালিত, বায়ুচালিত হোক কিংবা মেশিন চালিত পাম্প হোক অবশ্যই লাইসেন্স নিয়ে পানি উত্তোলন করতে হবে। 

আইন প্রণয়ন বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ দৌলা আমার সংবাদকে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আইন প্রণয়নের কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বলতে পারেন চলমান। 

তবে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের অনুমতি ওয়াটার রিসার্স প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) থেকে দেয়া হয়। যদি সংস্থাটি যদি কোনো কারণে অনুমতি দিতে সমস্যায় পড়ে তখন তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। আমি গত মাসের ২৯ তারিখ অবসরে এসছি।  

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বোরোসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে টপসয়েল (ওপরের) মাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সুপেয় পানির সংকট তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। 

আইনটিতে উপজেলা পরিষদকে লাইসেন্স প্রদানের কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের লাইসেন্স ছাড়া কোথাও নলকূপ স্থাপন করা যাবে না। লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফরমে ফি সমেত আবেদন করতে হবে। 

অন্যথায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। যে স্থানে নলকূপটি স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে তা উল্লেখ থাকতে হবে। কমিটি ওই স্থানের পানির স্তর অ্যাকুইফারের অবস্থা দেখে লাইসেন্স দেবে। নিকটবর্তী নলকূপের দুরস্তও আমলে নেবে কমিটি। 

গৃহস্থালি কাজের জন্য ব্যবহূত নলকূপের বিয়ষটি আবেদনে উল্লেখ করতে হবে এবং এ ধরনের নলকূপের ওপর কোনো ধরনে প্রভাব পড়ছে কি-না তা দেখা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি নিশ্চিত হন যে নলকূপ স্থাপনের ফলে ওই এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। পরিবেশের ওপর কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। 

এছাড়া পানি উত্তোলনের ফলে কোনো ধরনের ক্ষতি সাধন হবে না। তা হলে লাইসেন্স প্রদান করবে। কেউ কোনো কারণে লাইসেন্স না পেলে আপিল করতে পারবেন। বিদ্যমান সব নলকূপ আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় তা চালাতে পারবে না। লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যদি বুঝতে পারে যে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে তাহলে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে লিখিত আদেশে লাইসেন্স বাতিল কিংবা স্থগিত করতে পারবে। 

তবে লাইসেন্স বাতিলের আগে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে শুনানি নিতে হবে। লাইসেন্স স্থগিতের মেয়াদ ৪৫ দিনের বেশি হবে না। এ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। 

আইন অমান্য করলে অর্থাৎ লাইসেন্স ছাড়া কোনো নলকূপ স্থাপন করা হলে অনধিক দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এ আইনের অধীনে সংঘঠিত অপরাধের মামলা বিচারের জন্য গ্রহণ করতে পারবে না। শিগিগিরই এ আইনের অধীনে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করবে সরকার।