আলোকিত মানুষ কিন্তু আলোকিত নয়

 বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত "যৌন-নিপীড়িন ও নারীর লাঞ্চনা" বিষয়ক একটি সেমিনারে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। প্রধান আলোচক ছিলেন দেশের স্বনামধন্য একজন মানুষ। কথায়, যুক্তিতে, বাচনে, উপস্থাপনায় প্রায় ৪৫ মিনিট উনি মন্ত্রুমুগ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উনার আলোচনা উপস্থাপন করলেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ছিলেন কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ে। উপস্থাপিকারা সাধারণত খুবই রুপসী হয়ে থাকেন। ইনি ছিলেন-আরেকটু বেশি অসাধারণ। আলোচনা শেষ হলে জলপানের ব্যবস্থা ছিলো। যেখানে আর সাধারণের কেউ নেই।সবাই কেউকাটা, অসাধারণ। এই অসাধারণের মাঝে চমকে ওঠার মতো আরো অসাধারণ একটা জিনিস খেয়াল করলাম। প্রধান আলোচক যার নামের আগে ডঃ ডিগ্রী লাগানো- তিনি সেই অসাধারণ চেহারার উপস্থাপিকাকে দুচোখ ভরে উপভোগ করছেন। মেয়েটি যেদিকেই যাচ্ছে, উনার চোখদুটো তাকে অনুসরণ করছে। শুধুমাত্র দেখে উনার চোখের তৃষ্না হয়তো মিটলো না, তাই উনি এবার ফোন বের করে গোপনে মেয়েটির ছবি তোলতে লাগলেন। সরাসরি গিয়ে উনাকে কিছুই বলতে পারলাম না। শুধু আপুটাকে গিয়ে বললাম- আপু স্যারের মুঠোফোনে আপনি আপনার কয়েকটি ছবি তোলে দিলে স্যারকে আর চুরি করে আপনার ছবি ওঠাতে হবেনা।

ঘটনা এখানে শেষ হলেই ভালো ছিলো। কিন্তু, এরপর যে আরেকটি চমক আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো- যেটা আমাকে সারাজীবনের জন্য একটা শিক্ষা দিয়ে গেলো।মেয়েটি বের হয়ে রিকসায় ওঠে বসেছে। রিকসাড্রাইভারও প্যাডেলে চাপ দিবে। ঠিক এমন সময় মেয়েটির পা থেকে খুলে একটি জুতো মাটিতে পড়লো। মেয়েটি নীচে নেমে জুতোটি নিতে যাবে। কিন্তু রিকসা ড্রাইভার বললো- আপনি বসেন। রিকসা ড্রাইভার জুতোটি হাতে নিয়ে মেয়েটির কাছে এলো। মেয়ের এক হাতে ব্যাগ, আরেক হাতে বিভিন্ন কাগজপত্র। বুঝতে পারছেনা সে কি করবে। রিকসা ড্রাইভার মনে হয় ব্যাপারটা বুঝতে পেরে নিজ হাতে মেয়েটির পায়ে জুতো পরিয়ে দিলো।শিক্ষার অন্যতম শক্তি হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা। যার শিক্ষা যত বেশী তার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তত বেশী হবে। সেটা হতে পারে-লোভের নিয়ন্ত্রণ, রিপুর নিয়ন্ত্রণ সব। যৌন-নিপীড়িন ও নারীর লাঞ্চনা- অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে ডঃ সাহেব গোপনেই একটা মেয়েকে যৌন-নিপীড়িন করে গেলেন। ফলে বুঝা গেলো-উনার একটা ডঃ ডিগ্রীর সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু আসলে উনি শিক্ষিত না।আর রিকসার ড্রাইভারের শিক্ষার কোনো সার্টিফিকেট নাই, কিন্তু একজন নারীকে এভাবে সম্মান দেয়ায় উনি আসলেই শিক্ষিত। একজন সমাজের আলোকিত মানুষ যিনি গোপনে নারীকে নীপিড়ন করেন।আরেকজন সমাজের অনালোকিত মানুষ যিনি নারীকে সম্মান দিয়ে পায়ে জুতো পরিয়ে দেন।একজন অশিক্ষিত হলেও মানুষ হিসাবে সাবাশ, আরেকজন শিক্ষিত হলেও মানুষ হিসাবে সর্বনাশ!!!

লেখক- মো:মেহেদী হাসান (রুবেল)