আসছে ২২ -এ শিক্ষার্থীদের ২২ রকমের চাওয়া  

মনে যদি লেগে থাকে চাই চাই রবটা,
মিটবে না কিছুতেই ভবের এই চাপটা-
দরকার নেই তবু বেঁচে থাকে চাওয়াটা;
মিটবে কি কোনোদিন চাহিদার পাওয়াটা ?

অতনু সেনগুপ্তের ‘জীবনের চাহিদা’ কবিতার এই চার লাইনের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়, মানুষের জীবনের চাহিদা কখনো শেষ হবার নয়। তেমনি নতুন বছরে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানান রকমের চাহিদা। কেউ ভালো মানের ক্যাম্পাস চাই; কেউ চাই ক্যারিয়ার গড়ার বিভিন্ন প্লাটফর্ম। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচলে করোনা গর্ভে হারিয়ে গেল প্রায় দেড় বছর। এই দীর্ঘ পরিক্রমায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের চাওয়া বেড়ে হয়েছে দেড়গুণ। নতুন প্রাপ্তির আশা নিয়ে নতুন বছরের শুরু করতে চাই শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের হরেক রকমের চাহিদার মধ্যে কিছু যৌক্তিক, কিছু অযৌক্তিক। শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত বিভিন্ন ভাবে ব্যক্ত করেছেন, এই যেমন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন শেখ বলেন, তিতুমীর কলেজ আমার কাছে এক আবেগ, ভালোবাসার স্থান। আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ক্যাফেটেরিয়া নেই যেটা খুবই প্রয়োজন। আমার মতে আমাদের কলেজের শিক্ষার মান বাড়াতে প্রতিটি বিভাগে অল্প সংখ্যক আসন রাখা উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে ক্লাসে মনোযোগ দেয়াসহ শিক্ষকদের ক্লাস নিতে সুবিধা হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা সহজ হয়। এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি সর্বোপরি আমার কলেজ নিয়ে গর্বিত।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম বলেন, সুন্দর একটি পাঠাগার, প্রতিটি বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাস রুম থাকা এবং প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে উপস্থিত নিশ্চিত করা জুরুরি।

শামীম ইসলাম বলেন, তিতুমীর কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপদ, ক্লিন এবং গ্রিন একটি ক্যাম্পাস চাই। 

রাশেদ বিন শাহ বলেন, অবশ্যই আমি প্রথমতো চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্যাফেটেরিয়া, কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্বনামধন্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের নিজস্ব ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে কিন্তু আমাদের সেইটি নেই। যা আমাকে খুব এ ব্যতীত করে।

সমরেশ মজুমদারের মতে, মেয়েরা গণেশের মতো, মা দূর্গার চারপাশে পাক দিয়ে যে জগৎ দেখে তাতেই তৃপ্তি। কথাটির যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের কন্ঠে।

শিক্ষার্থী সজনি আক্তার বলেন, মেয়েদের হলের পরিবেশ মান সম্পন্ন, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা চাই।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরিকা আক্তার লিমা বলেন, মেয়েদের জন্য উন্নত মানের কমন রুম এবং সুষ্ঠু রাজনীতি চায়।

নীলাঞ্জনা নীলু বলেন, মেয়েদের পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম এবং ক্যাম্পাসে মেয়েদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত দেখতে চাই।

কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কতটুকু নেতৃত্ব দানে সক্ষমতা আছে, তা জানা যায় সে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠনগুলোর কাজের উপর। বর্তমানে তিতুমীর কলেজে ১৭টি সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং শিক্ষামূলক সংগঠন চালু আছে। প্রতিটি সংগঠনগুলো নতুন বছরে তাদের চাহিদা পূরণ করে তাদের উদ্দেশ্য ঠিক রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায়। নতুন বছরে সংগঠনগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মঙ্গলজনক। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সতিকসাস) এর ‘সংযোগ’ ম্যাঙ্গাজিন। যেখানে থাকবে নতুন এবং পুরাতন গর্বিত তিতুমীরিয়ানদের কথা। নতুন বছরে ডিবেটিং ক্লাব মান সম্পন্ন বির্তক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চাই। সরকারি তিতুমীর কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করত চায়, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব ইংরেজি বির্তক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ইভেন্ট হাতে নিতে চায়। একইভাবে অন্যান্য সংগঠনগুলো নিজ নিজ চাহিদা পূরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

না পাওয়ার সব গ্লানি মুছে নতুন বছর অর্জন আর প্রাচুর্য্যে, সৃষ্টি আর কল্যাণে হেসে উঠবে এই প্রত্যাশা সবার। সবশেষে সকল চাহিদার বিপরীতে সকল শিক্ষার্থীর আশা তিতুমীর কলেজের সার্বিক উন্নতি। সকল চাহিদা পূরণ করে নতুন দিগন্তের সূচনা হোক এই তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এই প্রত্যাশা সবার।

লেখা: শিক্ষার্থী, তিতুমীর কলেজ

আমারসংবাদ/এমএস