Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

বিলবোর্ডে প্রচারণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

মার্চ ১৩, ২০১৫, ০৩:০২ পিএম


বিলবোর্ডে প্রচারণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

 

ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিলবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানী। এখনো ঘোষিত হয়নি তফসিল।

গত বৃহস্পতিবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রাণলায়ের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এক বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী জুনের  মধ্যেই ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করবে ইসি। আর কয়েকদিন ধরে রাজধানীর ওলি গলি, চায়ে দোকান, পাড়া-মহল্লায় সর্বত্রই আলোচনার বিষয় একটিই সিটি নির্বাচন।

আর এ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র কিংবা কাউন্সিলর পদে নিজেদের প্রার্থী দাবি করে বিলবোর্ড-ব্যানার ফেস্টুন ছাপিয়ে আশির্বাদ চাচ্ছেন নগরবাসীর কাছে। সেই সাথে দলীয় সমর্থনও চাইছেন কেউ কেউ। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী- এ ধরণের প্রচার আইনের লঙ্ঘন। তাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচন র্নিদলীয় নির্বাচন। আর এ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন এ ধরনের প্রচারণা মেনে নেবে না।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেওয়ার পরপরই হঠাৎ করেই বিভক্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বেশ তুঙ্গে। কয়েক দিন আগে, ঢাকার উত্তরে ব্যাবসায়ী আনিসুল হক আর দক্ষিণে সাবেক মেয়র হানিফের পুত্র সাইদ খোকনকে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত এর পরপরই ঢাকা দক্ষিণ সিটির অনেক জায়গা ছেয়ে গেছে বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে। যেখানে, সরকারী দল মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণার পাশাপাশি, মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরা। তবে সরাসরি ভোট চাওয়ার চাইতে, নিজেদের জাহির করার দিকেই তাদের নজর বেশি। তোয়াক্কা করা হচ্ছে না নির্বাচনী আরচরণবিধির। মহানগর উত্তরে অবশ্য, প্রচারণা এতটা ব্যাপক নয়, যদিও গণসংযোগে নেমেছেন কেউ কেউ। দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে, ঠিক কতজন লড়বেন তার পুরো তালিকা নেই এখনো।

 তবে সম্ভাব্য প্রার্থীর অনেকেরই আশঙ্কা, আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে বিলবোর্ড আর ব্যানারের এই অসম প্রতিযোগিতা বাড়বে আরও। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীদের পক্ষে এ ধরণের ব্যায়বহুল প্রচার প্রচারণা সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন। রঙ্গিন পোস্টার কিংবা ব্যানার-বিলবোর্ড ছাপিয়ে এ ধরণের প্রচারণায় যারা নেমেছেন, প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত মিলিছে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজের বক্তব্যে। এর আগে ২০১২ সালে আইন অমান্য করে ডিসিসি নির্বাচনের সম্ভব্য প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করলে, তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট।

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী:
উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার পছন্দ ব্যবসায়ী আনিসুল হক তবে আওয়ামী লীগের সাংসদ আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার প্রচারণায় নিজের প্রার্থীতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উত্তর ঢাকায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে মাঠে নেমেছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকও। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুকের পক্ষে উত্তর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় ও গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন খ্যাতনামা এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। আর নাগরিগ ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও উত্তর সিটির প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। মান্না উত্তরের প্রার্থী হলে বিএনপি তাকে মৌন্য সমর্থন দিতে পারে। জাতীয় পার্টি থেকে এরশাদ মনোনিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাবুল। দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার পছন্দ সাবেক মেয়র হানিফের পুত্র সাইদ খোকন। দলের আরেক সাংসদ হাজী মোঃ সেলিমও প্রার্থী হওয়ার প্রচারণায় আলোচিত। ড. তুহিন মালিক প্রার্থী হলে বিএনপি তাকে সর্মথন দিতে পারে। জাতীয় পার্টি থেকে এরশাদ মনোনিত প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন।

১৪ দল থেকে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার চিন্তাভাবনা:
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসছে না এমনটি ধরে নিয়েই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দলগুলো থেকেও আলাদাভাবে মেয়র প্রার্থী দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে। একইভাবে সমমনা অন্য দলগুলো থেকেও বেশি সংখ্যক প্রার্থী করার পক্ষে তারা। এতে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে না থাকলেও দুই সিটি নির্বাচনেই বড় ধরনের নির্বাচনী আমেজ তৈরি এবং নির্বাচনকে প্রতিদ্বনদ্বিতাপূর্ণ করা যাবে বলেও মনে করছেন তারা। এ কৌশলের অংশ হিসেবেই ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য বিএনপি জোট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে এলে এই রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল থেকে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দল আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক কিংবা সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এর পরও দুই সিটিতে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও তরীকত  ফেডারেশনের অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। কারও কারও পক্ষে এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি লিফলেটও বিলি করা হচ্ছে। দলগুলোর নিজস্ব ফোরামে অল্পবিস্তর আলোচনাও হয়েছে এ নিয়ে। ১৪ দলের শরিকদের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর ঢাকায় ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কামরূল আহসান, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার এবং তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি। অন্যদিকে দক্ষিণ ঢাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, জাসদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং তরীকত ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারী।