করোনা: সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করবে বিএনপি

করোনা সংক্রমণের হার তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিএনপি বিভিন্ন জেলায় তাদের ২৩টি সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা (উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের উপর) অযৌক্তিক এবং অকার্যকর। তারপরও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে আমরা সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা জানান, তারা তাদের সমাবেশ স্থগিত করেননি, শুধু তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন। ৩২টি জেলায় সমাবেশের নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।

নজরুল বলেন, ‘যখন স্থানীয় নির্বাচন চলছে এবং বাজার, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে তখন সরকার উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন সংক্রমণের ঝুঁকি বন্ধ জায়গার তুলনায় খোলা জায়গায় কম। কিন্তু সরকার খোলা জায়গার পরিবর্তে বন্ধ স্থানে জনসমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হল আমাদের চলমান আন্দোলনে বাধা দেয়া। কারণ সরকার ১৪৪ ধারা জারি করেও আমাদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দ্বারা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা খুবই স্বাভাবিক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ১১ দফা নিষেধাজ্ঞা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার চলমান নির্বাচনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেনি। সুতরাং, জনসভায় নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণে বিস্তার রোধকল্পে সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) জনসমাগম, সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এরপরই বিএনপি সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দিলো।

আমারসংবাদ/এমএস