Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

যাত্রী স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত কাম্য নয়

জানুয়ারি ১২, ২০২২, ০৮:৩০ পিএম


 যাত্রী স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত কাম্য নয়

দেশে করোনা সংক্রমণের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাব। দেশে সোমবার পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ জন। যদিও এখন এর গুচ্ছ সংক্রমণ (ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন) রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে ওমিক্রন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। আর আমাদের দেশে যে হারে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে তাতে একসময় ডেল্টাসহ অন্য ধরনগুলোকে পেছনে ফেলবে ওমিক্রন। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে করোনার সংক্রমণ রোধে গণপরিবহনের জন্য নতুন করে নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আজ ১৩ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে হবে। এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বাসভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। এর আগে ২০২০ সালে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তখন পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। 

সে বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশনা তারা দেখেছেন। কিন্তু বাসভাড়া নিয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা পাননি। তার অর্থ হচ্ছে, আগের মতোই ভাড়া কার্যকর থাকবে। আর নতুন নির্দেশনা পেলে ওই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার মতে, বর্তমানে যে বাসভাড়া আছে, সেই ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করলে তেলের পয়সাও উঠবে না। 

তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাসভাড়া বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, বাসভাড়া বাড়বে কিন্তু অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সরকারি নির্দেশ কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, আগেরবারের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের জন্য ৬০ শতাংশ বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটি কার্যকর করতে পারেনি। বরং তারা গাড়ি পূর্ণ করেই যাত্রী পরিবহন করেছে কিন্তু ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া ঠিকই নিয়েছে। 

আমরা মনে করি, গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকে সরকারের বিশেষভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সম্প্র্রতি বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যে অনুপাতে তেলের দাম বেড়েছে বাসভাড়া বেড়েছে তার চেয়েও বেশি। উপরন্তু নানা কৌশলে বাসমালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করছে। 

এরপর আবারো ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর শামিল। অন্যদিকে এমনিতেই রাজধানীতে গণপরিবহনের সঙ্কট রয়েছে। স্বাভাবিক সময়েই মানুষ গাড়ি পায় না। সেখানে অফিস-আদালত সবকিছু খোলা রেখে অর্ধেক সিটে যাত্রী পরিবহন কার্যকর হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নৈরাজ্য। এতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ সরকারের মূল লক্ষ্য বিঘ্নিত হবে। 

তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে গণপরিবহনে যাত্রী, চালক, সহকারী সবাইকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে বাধ্য করা, যাত্রী ওঠা-নামার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, একজন যাত্রী নামার পর তার আসনে জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং যানবাহন চালুর আগে জীবাণুনাশক ব্যবহার করার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর এবং সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ উভয়ই যাতে রক্ষা করা সম্ভব হয় সেটা মাথায় রাখা জরুরি।