বিমান বাহিনীকে আরো আধুনিক করা হবে

  স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে সামনে রেখে বিমান বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে যশোরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিএএফ ঘাঁটিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে এই বাহিনীর সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ সফলতার সঙ্গে শেষ করে আজ আপনারা কমিশন পেতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের। অত্যন্ত গর্বের। আমি কমিশনপ্রাপ্ত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঐহিত্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই শুধু একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার, একটি ডিসি-৩ এবং একটি অটার বিমান নিয়ে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী আধুনিক বিমান বাহিনীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো জাতির জন্য একটি শক্তিশালী, পেশাদার ও আধুনিক বিমান বাহিনী অপরিহার্য। একথা অনুধাবন করে জাতির পিতা স্বাধীনতার পর পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি দক্ষ ও চৌকস বিমান বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিমান বাহিনীর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। বিদেশ থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার বিমান বাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯  সালে সরকার গঠনের পর আমরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। বিমান বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে এফ-৭, বিজি-১, ইএ-১ যুদ্ধবিমান, এমআই-এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।

তিনি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট, ফ্লাইট ক্যাডেট ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।