আজও যুবসমাজের আলোকবর্তিকা শহীদ শেখ মনি

স্বাধীনতা-উত্তর ষাট ও সত্তরের দশকের লাল-সবুজের একটি মানচিত্রের সংগ্রাম। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ভগ্ন অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনের মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের লড়াইয়ে নিজেতে সঁপে দেয়া এক বীরের নাম শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি।

স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও  সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ছিলেন অগ্রসৈনিক। বঙ্গবন্ধুকে তিনি ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। বঙ্গবন্ধু কি চাইতেন, তা তিনি বুঝতেন। 

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সারাদেশে প্রতিটি আন্দোলনে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতেন তিনি। সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর আপন ভাগ্নে হলেও রাজনৈতিক মাঠে ছিলেন আদর্শিক কর্মী। যার কারণে বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে পরিচয় ছাপিয়ে গণমানুষের কাছে হয়ে উঠেন ‘মনি ভাই’ হিসেবে। ষাড়ের দশকের গোড়ার দিক থেকেই নিজ মেধা, চিন্তা, প্রতিভা ও সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে ছাত্র ও যুবসমাজের কাছে ভালোবাসার মধ্যমণি হিসেবে স্থান করে নেন। 

মাত্র ৩৫ বছরের জীবনে পাকিস্তানি জান্তা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠ, কারাবাস, নির্যাতন সহ্য, দেশের প্রতি ত্যাগ, মেধা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আজও যুবসমাজের আলোকবর্তিকা শেখ মনি। শেখ মনির রাজনৈতিক জীবন ছিলো সরাসরি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে। 

বঙ্গবন্ধু তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন। সেটি বুঝতে পেরেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার আগে শেখ মনিকে সস্ত্রীক নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর পর শেখ মনিই হবেন ঘাতকদের প্রধান বাধা, গড়ে তুলতে পারেন কঠিন প্রতিরোধ, সেটি দূর করতেই তাকে টার্গেট করা হয় আগে। তৎকালীন সময় নিয়ে লেখা একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণদর্শী বই থেকে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিকে এভাবেই আবিষ্কার করলাম।

শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি শুধু রাজনীতিবিদ নন, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রখ্যাত ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের কাজে তার কলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি সাপ্তাহিক বাংলার বাণী, পরে দৈনিক বাংলার বাণী, সাপ্তাহিক সিনেমা, দ্য বাংলাদেশ টাইমস প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন। 

এর বাইরে দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য পিপলস পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। তার লেখা ‘অবাঞ্ছিতা’ উপন্যাস পাঠক সমাদৃত। শেখ ফজলুল হক মনির গল্পগ্রন্থ ‘গীতারায়’ ৪৫ বছর পর ২০২০ সালে তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। বইটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭২ সালে। এরপর ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় প্রকাশ হয়। 

‘গীতারায়’ গল্পগ্রন্থে মোট ছয়টি গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর শিরোনাম হচ্ছে— বৃত্ত, ব্যর্থ, জাত, অবাঞ্ছিতা, হোঁচট এবং গীতারায়। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিকে নিয়ে লেখা কঠিন। তবে বর্তমান প্রজন্মের একজন কর্মী হিসেবে ইতিহাসের পাতা থেকে শেখ মনিকে নিয়ে লিখতে চেষ্টা করলাম। আজ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮৩তম জন্মদিন। ক্ষণজন্মা এ যুবনায়কের প্রতি বিনম্র্র শ্রদ্ধা।

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ সংগঠক। বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের সৃজনশীল যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স তথা মুজিববাহিনীর অন্যতম প্রধান কমান্ডার, গবেষক ও সাংবাদিক। ছিলেন ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের কর্মসূচি প্রণয়নের অন্যতম প্রণেতা। 

সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী শেখ মনি সত্তরের নির্বাচনি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেন, পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশকে ছয় দফা-ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংক-বিমা ও ভারী শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, পাট ও তুলা ব্যবসা জাতীয়করণ, পূর্ব পাকিস্তানের জায়গিরদারি, জমিদারি ও সর্দারি প্রথার উচ্ছেদ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনা মওকুফ, শ্রমিকদের ভারী শিল্পের ২৫ শতাংশ শেয়ার ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন ইত্যাদি। (স্মরণীয়-বরণীয়, ব্যক্তিত্ব, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়-পৃষষ্ঠা-৪৬১)

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে অতি আওয়ামী লীগার, স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন শহীদ শেখ মনি। তাই তো তিনি ছিলেন অনেকের বিরাগভাজন। সতর্ক করে তিনি লিখেছেন ‘বঙ্গবন্ধু একদিন বলেছিলেন, আমি অতি বড় জালেমকে ভয় করি না— প্রচণ্ড জুলুমকেও আমি ভয় করি না। আমি যাকে ভয় পাই তা হলো— বাংলার মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তাদের এ গভীর ভালোবাসা, অপরিমিত প্রেম ও অকৃত্রিম আস্থার. মর্যাদা কি আমি রাখতে পারবো?’

সেদিন রেসকোর্সে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আপামর বঞ্চিত বিজয়ী বীর বঙ্গবন্ধু যখন এ কথা বলেছিলেন তখন তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এসেছিল। গলার স্বর হারিয়ে কেঁদেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ‘হে বাংলার মানুষ। তোমরা আমাকে ভালোবেসেছ। তোমারা আমাকে এক কণ্ঠে সাড়া দিয়েছ। আমি তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আমার সহকর্মীদের মধ্য থেকে যদি কেউ তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে জ্যান্ত কবর দিও।’ 

তিনি আরও বলেছিলেন, তার সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম— তার  সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। আর সেই মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রামে যার হাতে যা আছে, তা-ই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জনতা তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। এক গঙ্গা রক্ত বইয়ে দিয়ে সে স্বাধীনতার সংগ্রাম-মুক্তির সংগ্রামকে সফল করে তুলেছে। বাংলা আজ স্বাধীন— আর সেই স্বাধীন বাংলার অধীশ্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাঞ্ছিত ক্ষতবিধ্বস্ত মানুষের কর্তৃত্ব, ভূত-ভবিষ্যতের দায়িত্ব তার দল আওয়ামী লীগের ওপর। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। শত্রুর জিন্দাখানায় মৃত্যুর মুুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি আত্মসমর্পণের শর্ত মেনে নেননি। 

ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে ফিরে এসে তিনি সরকারের হাল ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিবা-রাত্র পরিশ্রম করে চলেছেন। অতীতে যেভাবে ডাল-ভাত, মাছ-ভাত খেয়ে তিনি কাজ করতেন— সেভাবে কাজ করে চলেছেন আজও। তার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু যে সর্বনাশা পরিবর্তনের ব্যাধি আজ আওয়ামী লীগের মধ্যে সঞ্চারিত হতে চলেছে, জনতাকে গড়ে তোলার পরিবর্তে নিজেকে গড়ে নেয়ার অশুভ মানসিকতা আমাদেরকে পেয়ে বসেছে, তাতে করে আমরা যেনো নিজেরাই স্বআরোপিত জ্যান্ত কবরে ঢুকে পড় উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। (১১ মার্চ ১৯৭২, দূরবীনে দূরদর্শী )। 

শেখ ফজলুল হক মনি স্বাধীনতার পর মুজিববাদের আলোকে ‘সোনার বাংলা’ গঠন করতে চেয়েছিলেন। মুজিববাদকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য তিনি বারবার কলম ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ধনতন্ত্রে ফিরে যেতে চাই না, আমরা চাই মুজিববাদী বাংলাদেশ। তাই মুজিববাদী বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনাকে কার্যকর করার জন্য নতুন আইনের শাসন দরকার, পুরনো আইনের ব্যাধির সংক্রমণ নয়। বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতার চাহিদা সেটাই। প্রগতিবাদী বাংলার জনতার সেটাই কামনা। তারা শেখ মুজিবের শাসন চায়, পুরাতন পুঁজিবাদী আইনের শাসনের পুনর্বহাল বা পুনর্বাসন নয়।’ (মুজিবের শাসন চাই আইনের শাসন নয়— দূরবীনে দূরদর্শী)।

সদ্য স্বাধীন দেশে জেঁকে বসেছিল আমলাতন্ত্র। সেটা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন তিনি। দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্র নিবন্ধে তিনি বলেছেন— ‘চারিদিকের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের দেশের দুর্নীতিপরায়ন আমলাদের ঝেটিয়ে তাড়ানোর দরকার এসে গেছে। সরকার সমাজতন্ত্রীকরণ কর্মসূচি ঘোষণার পরও তাদের মানসিক পরিবর্তন হয়নি ৩০ লাখ লোকের লাশের উপর দাঁড়িয়ে এখনো যে সব আমলা ও দুর্নীতিপরায়ন লোক দু’হাতে লুটে খাবার কাজে মত্ত, ধরে নিতে হবে তারা সংশোধনের বাইরে।’ রূপকথার রাজার মতো বঙ্গবন্ধু এদের একটা চান্স দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটারও তারা অপব্যবহার করছে। পুরোনো আমলের অভ্যাস মাফিক নিজি নিজ আখের গুছানোর কাজে। খাসলত এদের বদলায়নি, বদলাবার নয়। এ সত্যটা বাংলাদেশ সরকার যত শিগগিরিই অনুধাবন করতে পারবে ততই মঙ্গল। এদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান নয়, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। (১১ মে ১৯৭২, দূরবীনে দূরদর্শী)।

শেখ মনির বীরত্বময় জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় : বঙ্গবন্ধুর আদরের ভাগ্নে শেখ মনির বেড়ে উঠা রাজপথেই। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠক ১৯৩৯ সালে ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শেখ নূরুল হক বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম প্রধান গেরিলা বাহিনী ‘মুজিববাহিনী’র কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। 

শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা নব কুমার ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। 

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন শেখ মনি। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয়  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের কাছ থেকে সনদ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জিতে ডিগ্রি ফিরে পান। 

১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ও কৃতিত্ব ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফার পক্ষে হরতাল সফল করে তোলা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের তিনি তখন সংগঠিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। ওই হরতাল সফল না হলে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম পিছিয়ে যেতো। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে এ অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

অর্থাৎ শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য গোটা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখেন শেখ ফজলুল হক মনি। 

তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালে ১১ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজ, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এ চার মূলনীতিকে সামনে প্রতিষ্ঠিত হয় যুবলীগ। 

সংগঠনটির লক্ষ্যে বলা আছে, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সময়ের ধারাবাহিকতায় শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির প্রতিষ্ঠিত যুবলীগের হাল ধরেছেন জ্যেষ্ঠ ছেলে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ। 

২০১৯ সালে ২৩ নভেম্বর সংগঠনের সপ্তম কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শেখ পরশ।  ঘনিষ্ঠজনরা বলে থাকেন, পিতা শেখ মনির চোখে দেখা যুবলীগকে পুরোপুরি উপলব্ধি করেন শেখ পরশ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পিতার কাঙ্ক্ষিত যুব সংগঠন গড়তে তৎপর তিনি। তার নেতৃত্বে করোনা সংকটে মানবিকতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে যুবলীগ।  

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।