থানচিতে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস অনুষ্ঠিত

আজ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস। আজ এই দিনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর। দেশটির স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীতে যোগ হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের সুপারিশ। এই প্রাপ্তি নিয়েই এবার জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে।

বান্দরবানের থানচিতে সারা দেশের ন্যায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়েছে। ২৬ মার্চ শুক্রবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্প অর্পনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। 

সকাল ৮:০০ টায় আনুষ্ঠানিভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ এবং পুলিশ বাহিনী, আনসার বাহিনী এর সমন্বয়ের মাস্ক পরিধান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয়। এর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউল গনি ওসমানী। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে চিলেন, থানচি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার হাসপাতাল ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ, থানচি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ ও ১নং রেমাক্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা প্রমুখ। এছাড়া সকল অধিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনে প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। বলেছিলেন, ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই দিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানির দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

বঙ্গবন্ধু এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতির শান্তি সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কামনা করে মসজিদ, গির্জা, মন্দির ও প্যাগোডায় প্রার্থনা করার পাশাপাশি বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়।

আমারসংবাদ/জেডআই