আমির হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ
জুলাই ২৯, ২০২১, ০৯:২০ এএম
বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চুনা শিল্প দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উৎপাদিত চুনার গুনগত মান ও অনেক ভাল হওয়ায় এখানকার চুনার চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন।
মানুষের দৈনন্দিন কাজে চুনার যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি ওষুধের কাঁচামাল, ঘর বাড়ি, টানারি শিল্প সহ সকল কাজেই এই চুনার গুরুত্ব অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। এমন কোন শিল্প নেই যে চুনার ব্যবহার করা হচ্ছেনা। এক সময়ে সারাদেশে সিলেটের ছাত্রক থেকে চুনা আমদানী করতো ব্যবসায়ীরা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এতে একদিকে যেমন ক্যারিং খরচ অনেক বেশী পড়তো তেমনি চুনা ছাত্রক থেকে দেশের অন্য প্রান্তে থেকে পৌঁছতেও অনেক সময় লেগে যেত। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ১৯৮০ সাল থেকে আস্তে আস্তে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে চুনা শিল্প গড়ে উঠতে থাকে।
পর্যায়ক্রমে চুনা শিল্পের বিকাশ ঘটে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টি কারখানা গড়ে ওঠে। চুনার গুনগত মান ভালো এবং এখান থেকে ঢাকা সহ অন্যান্য জেলায় চুনা পরিবহনে ক্যারিং খরচ ও কমে যাওয়ায় এখানকার চুনা দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করতে থাকে।
সিদ্ধিরগঞ্জের চুনা কারখানা উৎপাদিত চুনা দেশব্যাপাী ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। ছাতক ও সিদ্ধিরগঞ্জের চুনার মান অত্যন্ত ভাল, উভয় অঞ্চলের দামে প্রায় সমান। যার কারণে এই শিল্পের বিকাশ দিনে দিনে বাড়তে থাকে। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ টি চুনা কারখানা রয়েছে। তিতাসের সাথে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে চুনা শিল্প পরিচালিত হয়।
গ্যাস মাধ্যমে অত্যন্ত পরিপাটিভাবে চুনা কারখানা গুলোতে পাথর পুড়িয়ে চুনা উৎপাদন করা হচ্ছে। সরকার এই চুনা শিল্প থেকে প্রতি মাসে ও অর্থ বছরের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। চুনা শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে লাখ লাখ পরিবার। তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এই শিল্পের মাধ্যমে।
সরেজমিনে চুনা কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্জন এলাকায় মূলত চুনা কারখানা গুলো গড়ে উঠেছে। যার ফলে এই শিল্পের কারণে মানুষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এবং পরিবেশের উপরও কোন বিরুপ প্রভাব পড়ছে না। এই চুনা শিল্পের কোনো ধরনের বর্জ্য নাই। চুনা কারখানা মালিকরা অত্যন্ত সুচারুভাবে কারখানায় পাথর পুড়িয়ে চুনা উৎপাদন করছেন যাতে মানুষের এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে শতভাগ খেয়াল রেখে।
প্রতিটি চুনা কারখানার মালিক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন গ্রহণ করে এই শিল্প কারখানা চালাচ্ছেন। সরকারী সকল ভ্যাট ট্যাক্সও সঠিকভাবে প্রদান করছেন। বর্তমানে ভিয়েতনাম থেকে চুনা আমদানী করে বাংলাদেশের চুনা শিল্পের ধ্বংসের পায়তারা করছে। একটি মহল চুনা শিল্পের প্রতি বাকাঁ দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুনা শিল্প নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
চুনা শিল্প মালিকরা সরকারের বিরোধীতা না করে তাদের ন্যায়সঙ্গত সরকারের কাছে দাবি জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ যে সকল কারখানা আছে, সেগুলো কে রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং ব্যাংক থেকে সহজে আর্থিক সুবিধা পায় সেদিকে খেয়াল রাখে। যদি সু-দৃষ্টি না দেয় চুনা শিল্প ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না।ঢাকা থেকে যোগাযোগ ভাল সিদ্ধিরগঞ্জ এখানে পর্যাপ্ত জমি, গ্যাস সংযোগ সহজ হওয়ায় চুনা কারখানা গুলো চালু করা সহজ হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জে চুনা কারখানাগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ব্যাংক লোনের বিপরীতে চুনা কারখানার মালিকরা এই শিল্প দিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন গ্রহণ করেছেন এবং এই লোনের বিপরীতে মোটা অংকের সুদ প্রদান করে যাচ্ছেন। অন্যত্র চুনা কারখানা চালু না থাকলে সিদ্ধিরগঞ্জের চুনা কারখানা বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। একদিকে দক্ষ শ্রমিক হারাবে, অপরদিকে ব্যাংক লোন পরিশোধে ড্রপ পড়ে গিয়ে অনেক ব্যাংকের দায় দেনার মধ্যে পড়বে এই চুনা শিল্প।
বাংলাদেশ চুনা প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির জানান, সরকারের কাছে জোরালো দাবি, আমরা চুনা শিল্পের মালিকগন শিল্প মন্ত্রালয়ের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি চুনা কারখানা গুলো রক্ষার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সু-দৃষ্টি কামনা করছি এবং এই শিল্পের সাথে জড়িত লাখ লাখ লোকের স্বাভাবিক জীবিকা নির্বাহ ও চুনা অনেক কাজে ব্যবহার হচ্ছে সে লক্ষে চুনা শিল্পকে সুগম ও প্রসারিত করার দাবি জানান তারা।
আমারসংবাদ/এআই