মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধের দাবি

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বালুমহাল ইজারা বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর। যা নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে লিখিত আবেদন করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নদী ভাঙ্গা কমিটি। 

তাদের দাবি, বালুমহাল ইজারা বন্ধ রাখলে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী। কারণ মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে তীরে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৬ সালে মেঘনা নদীর গ্রাসে অসংখ্য মানুষ হারিয়েছে তাদের পৈত্রিক বসতভিটা। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনার নদীর হিজলা উপজেলায় ৩৫নং সৈদয়খালী সাওড়াসহ সকল বালুমহাল ইজারা বাতিল ও অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে রোববার (৩১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কাছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নদী ভাঙ্গা কমিটির পক্ষে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিলকৃত ওই আবেদন সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীতে বালুবহাল বন্ধে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নদী ভাঙ্গা কমিটির পক্ষে ওই আবেদনটি করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গোয়ালভাওর গ্রামের মো. বাবুল, তেতুলিয়ার মো. শিমুল হাওলাদার এবং উলানিয়ার মো. নুরু রহমান জাহাঙ্গীর। আবদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ মেঘনা নদী ভাঙ্গন কবলিত একটি এলাকা। 

২০০৬ সালে মেঘনা নদীর ভাঙনে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মেঘনা নদীতে নতুন ডুবচরে পরিনত হয়েছে। হিজলা উপজেলায় বালু-মাটি উত্তোলন করলে তাদের ডুবচরটি বিলীন হয়ে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে তারা ওইস্থানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না। 

আবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, হিজলা উপজেলায় ৩৫নং সৈয়দখালী সাওড়া মৌজাস্থ মেঘনা নদীর বালুমহালগুলো বন্ধ রাখার জন্য চলতি বছরের ১৬ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ ভূমি মন্ত্রী বরাবরে একটি আবেদন করেছেন। 

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, মেঘনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় বাধ নির্মাণে সরকার কর্তৃক ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে হিজলা উপজেলার সাওড়া বালুমহালটি বন্ধ রাখা প্রয়োজন। 

এর আগে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি একটি ডিউলেটারের মাধ্যমে চাঁদপুর-বরিশাল সীমানা নির্ধারনের জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেঘনা নদী হইতে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের বরাবরে আবেদন করেন। 

একই বছর চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া হাইকোর্টে ২৭৯৯/২০ রিট দাখিল করেন। উক্ত রিট মোকদ্দমায় কেন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে না, তাহা জানতে চেয়ে রুল দেওয়া হয়।

 এছাড়া চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার নদী ভাঙ্গা কমিটির পক্ষে আবুল খায়ের পাটোয়ারী হাইকোর্টে ৬১৬০/০৯ রিট মোকদ্দমা দাখিল করেন। এতে বলা হয়েছে উক্ত রিট মোকদ্দমা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হিজলা উপজেলার ৩৫নং সৈয়দ খালী সাওড়া মৌজা সহ মেঘনা নদীর সকল বালুমহাল ইজারা বন্ধ রাখতে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এতোকিছুর পরেও মেঘনা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী বালু নিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে এলাকার সাধারণ মানুষ বরাবরই অসহায়। 

ওই প্রভাবশালী মহল নামে-বেনামে প্রতি বছর বালুমহাল ইজারা নিয়ে পুরো মেঘনা নদীকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে দখলে রাখে। অবৈধ ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে নতুন ডুবচরটিকেও ভাঙন হুমকিতে ফেলছে। সমপ্রতি তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। 

বালুমহাল ইজারা বন্ধের বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কাছে আবেদন করা হয়, তখন আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখি। এক্ষেত্রেও তাই করা হবে।

আমারসংবাদ/এআই