বাস-লঞ্চ বন্ধে চরম দুর্ভোগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ 

জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর দাবিতে ধর্মঘট

ভাড়া পুননির্ধারণ অথবা জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর দাবিতে বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের আহ্বানে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বরিশালেও চলছে ধর্মঘট। বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীর দুটি বাস টার্মিনাল এবং বিভাগের অপর ৫ জেলা সদর থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। 

গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়ে রোববার তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব রুটের নিয়মিত যাত্রী এবং স্ব-স্ব এলাকার ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। বাস বন্ধ থাকায় দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া দিয়ে থ্রি হুইলারসহ অন্যান্য হালকা যানে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ভোগান্তিতে পড়া এসব যাত্রীদের দাবি তেলের দাম বৃদ্ধির খেসারত দিতে হচ্ছে জনসাধারণের। এতে চাপ পড়েছে তাদের উপর। বেড়েছে ভোগান্তি। প্রভাব পড়েছে সড়ক পথে পণ্য পরিবহনেও। ইতোমধ্যে প্রতি কেজি সবজিতে খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। দাবি না মানায় গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে বাস এবং পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নথুল্লাবাদ থেকে দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

অপরদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের নৌযানেও। জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর দাবিতে বরিশাল-ঢাকাসহ সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে যাত্রী ভাড়া পুনঃনির্ধারণ না করায় লোকসানের আশঙ্কায় গতকাল শনিবার দুপুর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লঞ্চ যাত্রীরাও।

লঞ্চ মালিক সমিতি কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে প্রতি ট্রিপে এক থেকে দেড় লাখ টাকার জ্বালানি খরচ বেশি হচ্ছে। কিন্তু সরকার ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করেনি। লঞ্চ মালিক সমিতি গত শুক্রবার এক জরুরি সভা করে রেজুলেশন আকারে ভাড়া পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করে। গতকাল শনিবার দুপুরের মধ্যে ভাড়া পুনঃনির্ধারণের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। এমনকি মালিক নেতৃবৃন্দদের ডেকেও কোরো আশ্বাস দেয়নি। এ অবস্থায় মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ লোকসানের আশংকায় গতকাল শনিবার দুপুর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে। 

প্রসঙ্গত, ভাড়া পুননির্ধারণ অথবা জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর দাবিতে বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের আহ্বানে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো গত শুক্রবার থেকেই বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীন এবং দূরপাল্লা রুটের বাস চালাচল। বাসের পর আকস্মিক লঞ্চ বন্ধের ঘোষনায় বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার লাখ লাখ মানুষ। 

আমারসংবাদ/কেএস