ধরা খেয়ে কোটি টাকার কাবিনে বিয়ে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বরিশাল থেকে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে ধামরাইয়ের ইশাননগরে আসেন এক যুবক। যুবকের নাম আলী আজম। সে বরিশাল জেলার টেম্পোর মোর এলাকার আরমান আলী হাওলাদারের ছেলে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবক তার প্রেমিকার বাড়িতে এসে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন ওই ফেসবুক প্রেমিককে আটক করে মারধর করেন। 

এক পর্যায়ে ওই প্রেমিকের বাড়িতে খবর দিলে শনিবার রাতেই প্রেমিকার বাড়ি ইশাননগরে আসেন প্রেমিকের বাড়ির লোকজন।

পরে দুই পরিবার ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে ১ কোটি টাকার কাবিনে ওই প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধামরাইয়ের ঈশানগর গ্রামের মো. কুটুমিয়ার কন্যা কানিজ ফাতেফার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বরিশাল সদরের টেম্পোর মোড় এলাকার আরমান আলী হাওলাদারের ছেলে মো. আলী আজম হাওলাদারের। 

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সকালে লঞ্চে চেপে সদরঘাটে নেমে বাদ জুমা সোজা প্রেমিকার বাড়িতে চলে যান। বিষয়টি জানতে পেরে এক পর্যায়ে এলাকাবাসী রাতেই তাকে আটক করে মারধর করেন। আটক প্রেমিকের বাবা-মাকে খবর পাঠানো হলে শনিবার দুপুরে তারা কুটুমিয়ার বাসায় আসেন। এরপর রাতে কোটি টাকার কাবিন রেজিস্ট্রি করে প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে দেওয়া হয়।

মারধরের শিকার প্রেমিক আলী আজম জানান, ফেসবুকে কানিজ ফাতেমার সঙ্গে আমার পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার সঙ্গে দেখা করতে আসি, কিন্তু আমাকে এলাকাবাসী আটক করেন। এরপর আমার পরিবারের লোকজন আসলে সকলের মতামতের ভিত্তিতে তাকে বিয়ে করি।

প্রেমিকা কানিজ ফাতেমা জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। আমিই তাকে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু গ্রামবাসী ও আমার পরিবারের লোকজন আমার মতামত উপেক্ষা করে তাকে আটক করেন। ভালোবাসার সম্মান রাখতে তিনি আমাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন। আমি অনেক খুশি।

মেয়ের বাবা কুটুমিয়া জানান, চেনা নেই, জানা নেই, মেয়ে একজনকে ভালোবাসবে তা হতে পারে না। তাছাড়া ও এখনো নাবালিকা। ওর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বয়স হয়নি। তাই ছেলেকে আটক করা হয়, কিন্তু ছেলের বাবা-মা এসে রাজি থাকায় বিয়ে সম্পন্ন করলে আমরা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানায়, ছেলে-মেয়ে রাজি আছে। গ্রামবাসী ও পরিবারের লোকজন রাজি না হওয়ায় প্রথমে ওই ছেলেকে আটক করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সমাধান করে  আমরা তাদের বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছি।

আমারসংবাদ/এমএস