আমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে কি কিছু বলবো না?

আমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে কি কিছু বলবো না?

গতকাল মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা।  রোববার (১৬ জানুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন স্থানীয় ভোটাররা।  

শনিবার ভোটের আগের দিন সকালে শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন,  প্রচার না, আমি সংবাদ সম্মেলন করছি। আমি ভোট চাইনি। আমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে আমি কি বলবো না? আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমার গলায় আপনি ফাঁসি লাগিয়ে দেবেন আর আমি কথা বলতে পারবো না, সেটা তো হবে না। এটা নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের ওপর যত অত্যাচার হয় ভোটাররা তত ঐক্যবদ্ধ হয়।'

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে তার নেতা-কর্মীদের ধর-পাকড়ের অভিযোগ পুনর্ব্যাক্ত করেন এই মেয়র প্রার্থী। বলেন, 'প্রশাসনকে বলবো জনগণের সেবা করা আপনাদের দায়িত্ব। বহুবার রিকোয়েস্ট করেছি। এখন বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম। আগামীকালের ভোট যেমনই হোক আমরা মাঠে থাকব। গ্রেপ্তার হলে হবো। কিন্তু নির্বাচন চালিয়ে যাব।'

তৈমূরের পক্ষে কাজ করা মহানগর শ্রমিক দলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তৈমূর বলেন, 'আজকে আপনাদের সামনে হাজেরা বেগম উপস্থিত আছেন। তারা স্বামী মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আমার বাড়িতে রাত ২টা পর্যন্ত ছিলেন। তাকে ঈদগাহের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই আমার দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা এবং তারা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছে।'

তৈমূর আরও বলেন, 'এখানে (সংবাদ সম্মেলনে) অনেক লোক আছেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এদের মধ্যে এমন কোন লোক নেই যাদের বাড়িতে ২ থেকে ৩ বার লোক যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনি আমাদের ওপর এত অত্যাচার করছেন কেন? প্রশাসনের এহেন কাজে আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

'মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পাপনও কাল এখানে ছিল। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এটাই কি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া?' প্রশ্ন রাখেন তৈমূর।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। প্রচারণার শেষ দিনে সাংগঠনিক শক্তির মহড়া দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে নিয়ে নির্বাচনি সমাবেশ, র্যালি, গণমিছিল ও শোডাউন করেছেন। 

ওই প্রচারণায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন তারা। বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে তুলে ধরেছেন দলীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত অবস্থান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির অবস্থান। তুলে ধরা হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কোনো দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও দূরত্ব নেই।