মানুষকে ‍চিরদিন বাঁচিয়ে রাখবে যন্ত্র

 মানুষের মস্তিষ্কের মতো জটিল কোনো বৈদ্যুতিক সার্কিট তৈরি করতে সক্ষম হলেই যন্ত্রের মধ্যে মানুষের পুরো সত্তাকে রেখে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে।
মানুষের মস্তিষ্ক জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের মতো কাজ করে। এটি কম্পিউটারেও একদিন তৈরি সম্ভব হবে। আর ওই কম্পিউটার তৈরির পর এর মধ্যে মস্তিষ্কের সব স্মৃতি সংরক্ষণ করে মানুষের সত্তাকে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হানা ক্লিচলো এই দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হে ফেস্টিভালে ‘মানুষের মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচন’ শীর্ষক এক আলোচনায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী হানা ক্লিচলো যন্ত্রে মানুষের মস্তিষ্কের চিরদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে এ বক্তব্য দেন।

গবেষক হানা ক্লিচলো বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের মতো কোনো কম্পিউটারে এক লাখ কোটি সংযুক্তি থাকলে এর মধ্যেকার কোনো প্রোগ্রামে মানুষের মস্তিষ্ক চালানো সম্ভব। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি বেশ জটিল। এটি দীর্ঘ বৈদ্যুতিক সার্কিটের মতো কাজ করে যার মধ্যে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট অংশ। গবেষকরা এরই মধ্যে মস্তিষ্কের বিভিন্ন ছোট অংশের কাজ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এই নিয়ে এখনো বিস্তর গবেষণা চলছে।

গবেষক ক্লিচলো বলেন, মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে রহস্যের সীমা নেই। মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারে। কথিত আছে সাধারণ মানুষের চেয়ে মস্তিষ্কের বেশি অংশ ব্যবহার করেছেন আলবার্ট আইনস্টাইন, যে কারণে তিনি আপেক্ষিকতার সূত্র আবিষ্কার করতে পেরেছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রেল বিভাগের কর্মী ফিনিয়াস গেজের ব্যাপারটিও উল্লেখযোগ্য। একটি দুর্ঘটনায় ধাতব দণ্ড মাথায় ঢুকে যায়। মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাথমিকভাবে দেখা যায় তিনি কোনো স্মৃতি হারাননি। পরে অবশ্য তাঁর মস্তিষ্কের বড় ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

মানুষের মস্তিষ্কের কাজের পদ্ধতি নিয়েও রহস্য আছে। মানুষের মস্তিষ্কের গড়পড়তা ওজন দেড় কেজি, যা শরীরের ওজনের মাত্র দুই শতাংশ। অথচ শরীর মোট উৎপাদিত শক্তির ২০ শতাংশই ব্যবহার করে মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের সব অংশেই সব সময় শক্তিপ্রবাহ বজায় থাকে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য মস্তিষ্কের নির্ধারিত অংশ কার্যকর হয়। মস্তিষ্কের স্ক্যানে দেখা যায়, কার্যকর হওয়া মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত ও অক্সিজেন-প্রবাহ বাড়ে।

গবেষক হানা ক্লিচলো বলেন, একসময় মস্তিষ্কের সব রহস্য জানা যাবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে মস্তিষ্কের মতো জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিট। তখন মানুষের চেতনাকে কম্পিউটারের একটি প্রোগ্রামে নিয়ে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

গবেষক হানা আরো বলেন, বর্তমানে এক ধরনের টুপি পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত করা যায়। ভবিষ্যতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাথায় এমন টুপি নিয়মিত দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।