প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন
জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ০৫:০৩ এএম
পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ৬ বছর ধরে প্রণীত হলেও তার সঠিক প্রয়োগ এখন শুধু কাগজে কলমে। বাজারে মোট ১৭ টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন জারি করলেও ব্যবসায়িরা তার তোয়াক্কা না করে দেদারছে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। এতে করে বাজারে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও যখন অভিযান থেমে যায় আবারও পলি ব্যাগে ছেয়ে যায় পুরো বাজার।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অসংখ্যবার মোবাইল কোর্ট দিয়ে বাজারে অভিযান চালিয়ে আইনটি নিশ্চিত করার চেস্টা করে। তবে, মাত্র ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার দেখা যায়। গত কয়েক মাস ধরে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশ থেকে চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে পাটের বস্তা ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতা করায় বর্তমান বাজারে ঢালাওভাবে বেড়ে গেছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বস্তার ব্যবহার।
সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালীর কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মাদপুরের কৃষি মার্কেট, কচুক্ষেত বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চাল বিক্রয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোড়কজাতকরণের সময় অবৈধ এ প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। মোহাম্মাদপুর কৃষি মার্কেটের চালের আড়তদার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে এ প্রতিবেদককে জানান, বাজারে চালের দাম কমানোর জন্য প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এ সুবিধা সাধারণ জনগণ পায়নি। বরং আমরা যারা পাইকারী ব্যবসায়ী তারা বস্তাপ্রতি দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কম রেখেছি। সেই চাউল খুচরা ব্যবসায়ীরা দামে কম না রেখে বরং প্রতি কেজি চাল আগের মূল্যেই বিক্রি করেছে। এতে লাভের কিছুই হয়নি, মাঝখান থেকে অতিরিক্ত প্লাস্টিক বস্তার ব্যবহার বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে দায়িত্বে থাকা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. হায়দার আলী মোল্লা আমার সংবাদকে জানান, ভিয়েতনাম থেকে আনা চালের ক্ষেত্রে মাত্র ১২ লাখ টন চাল আমদানিতে শিথিলতা দেখিয়েছি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভিয়েতনামে পাটের ব্যবহার না হওয়ায় সে দেশ থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে আমরা প্লাষ্টিক ব্যাগ ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতার ব্যবস্থা করেছিলাম। এর ফলে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানির সময় আমরা মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে কৃত্রিম মোড়ক বা প্লাষ্টিক বস্তা ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছি। এর ফলে হয়তো বাজারে প্লাষ্টিকের বস্তা ব্যবহার হতে পারে। তবে শিগগিরই মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বসে বাজারে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহারে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ধান, চাল, গম, ভূট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা ও তুষ-খুদ-কুড়া পরিবহন ও সংরক্ষণে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর ১৪ ধারায় পরিস্কার বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করিয়া কৃত্রিম মোড়ক দ্বারা কোন পণ্য বা পণ্য সামগ্রী মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করবার অনুমতি প্রদান করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদ- বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।