রাজধানীতে অভিযানে ৬৬ কেজি সিসা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:০৮ এএম
  • যমজ ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর মাদকবিরোধী অভিযানে এক নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে মোট ৬৬ কেজি সিসা ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক অভিযানে জব্দ হওয়া এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ সিসা।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন দুই যমজ ভাই আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকা থেকে মো. মাকসুদ আলম (৪০) নামের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি জানান, চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সিসার ব্যবসা পরিচালনা করছিল। গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের প্রচারণা, অর্ডার গ্রহণ থেকে শুরু করে মূল্য পরিশোধ সবই হতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এরপর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হতো মাদকদ্রব্যের এই চালান।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার যমজ দুই ভাইয়ের মা-বাবা ইরানের নাগরিক। ব্যবসায়িক সূত্রে তারা বাংলাদেশে স্থায়ী হয়েছিলেন, তবে দুই ভাইয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই দেশেই। নিয়মিত ইরানে যাতায়াতের সুবাদে তারা সিসার বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ পদ্ধতি ও এর সেবনের সরঞ্জাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তারা গড়ে তোলেন এই অবৈধ নেটওয়ার্ক। প্রাথমিক তথ্যমতে, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি ব্যবসার মূল পরিকল্পনা করতেন।

অন্যদিকে, ভাটারা এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ আলম মূলত সিসার বড় চালানগুলো সরবরাহ করতেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি প্রথমে বসুন্ধরা এলাকায় ১ কেজি সিসার একটি পার্সেল আটক করে। পরে মালিবাগ থেকে আরও ১ কেজি সিসার পার্সেল জব্দ করা হয়। এই সূত্র ধরে গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়। পরে মাকসুদ আলমের কাছ থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৬৬ কেজির মতো সিসার পাশাপাশি সিসা সেবনের ৪০ কেজি বিশেষ কয়লা এবং মাদক কেনাবেচায় ব্যবহূত ৫টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, ‘জব্দ মুঠোফোন এবং ফেসবুক পেজ থেকে আমরা বিপুলসংখ্যক ক্রেতার একটি ডেটাবেজ পেয়েছি। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ক্রেতা, পরিবেশক ও অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করা।’ তিনি আরও জানান, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের উৎস ও পরিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বোপরি, রাজধানীর এই অভিযান মাদকবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় মাইলফলক। এটি একদিকে যেমন সিসার অবৈধ অনলাইন ব্যবসার ভয়াবহ বিস্তৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতাকেও প্রমাণ করেছে। ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।