সিলেটের সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ গঠিত উচ্চতর তদন্ত কমিটি সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি সাদাপাথর এলাকায় যান।
এ সময় তারা এলাকায় ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রথমে তারা রেলওয়ে বাঙ্কার এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এই তদন্ত কমিটি গত ২০ আগস্ট গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীনের নেতৃত্বে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অন্তর্ভুক্ত আছেন। কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
এদিকে, পাথর ফেরত দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের তিন দিনের আল্টিমেটাম সোমবার শেষ হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত লুট হওয়া ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ঘনফুট পাথর ইতোমধ্যে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
ভোলাগঞ্জের ১০ নং ঘাট এলাকায় আরও ৭ লাখ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উদ্ধারকৃত পাথরগুলো সাদাপাথর পর্যটন স্পটে প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সাদাপাথরে ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়। চলতি আগস্টে পাথরহীন সাদাপাথরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
গত ১৩ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি টিম সাদাপাথর পরিদর্শন করে। এরপর ১৬ আগস্ট তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাসহ মোট ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাথর আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বা যোগসাজশ ছিল।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ইতোমধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করা হয়েছে এবং কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৭ আগস্ট বলেন, “এখানে যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে, তার বিপরীতে প্রশাসন হয় যোগসাজশ করেছে, নতুবা নীরব থেকেছে অথবা দুটোই ঘটেছে। এজন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা দ্রুতই গ্রহণ করা হবে।”
ইএইচ