দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা শাখা তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সমিতি, রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক শোক র্যালি বের করে।
র্যালি শেষে শহীদ আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের স্মৃতিতে ছোট যমুনা নদীর পূর্ব প্রান্তে নির্মিত শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, টিপু বিশ্বাস, মোশাররফ হোসেন নান্নু, উপজেলা আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল এবং জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
দুপুর ১২টায় শহীদ স্তম্ভ চত্বরে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে কোয়লাখনি বিরোধী শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ও বাসদ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
শহীদদের স্মরণে বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ প্রমথেশ শীল, সাইফুল ইসলাম, কিবরিয়া হোসেন, জয় প্রকাশ গুপ্ত, হামিদুল হক, এসএম নূরুজ্জামান জামান, গোলাম কিবরিয়া, কমল চক্রবর্তী, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, মাহমুদ হাসান বাবু, হিমেল মন্ডল, মো. নাসিম ও মো. আব্দুল কাইয়ুম আনছারী।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তৎকালীন বিএনপি-জোট সরকারের সময় স্বাক্ষরিত ছয় দফা চুক্তি অনুযায়ী এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিস্কার, দেশের কোথাও কোনো উন্মুক্ত কয়লাখনি না করা, আন্দোলনকারীদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা না করা এবং সুবিধাভোগী দালালদের বিচারের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯ বছর পার হলেও চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে, মূল দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এশিয়া এনার্জি নতুন ষড়যন্ত্র করছে এবং আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।
তিনি আরও বলেন, ফুলবাড়ীর কয়লা সম্পদ দেশের জনগণের। কিন্তু এশিয়া এনার্জি তা লন্ডন শেয়ার বাজারে বিক্রি করছে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুনরায় কোনো ষড়যন্ত্র হলে দেশপ্রেমিক মানুষ আগের চেয়ে শক্তিশালী গণঅভ্যুত্থান ঘটাবে। ছয় দফা চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে অক্টোবর মাসে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টহল প্রদান করেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির কয়লাখনি প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তিনজন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনের চাপের ফলে সরকার ৩০ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।
ইএইচ