সাতক্ষীরা রেঞ্জে তিন মাস বন্ধের পর খুলছে সুন্দরবন ৷ জাল নৌকা ও পর্যটকবাহী ট্রলার মেরামতের শেষ সময় পার করছেন, জেলে বাওয়ালীরা। জুন, জুলাই, আগস্ট ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় জেলেরা যেমন সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেনি, তেমনি পর্যটকবাহী ট্রলার পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেনি ৷ ঋণে জর্জরিত হয়েছে মহাজনের কাছে ৷ তবে এতোদিন পর সুন্দরবনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় নাভিশ্বাস শেষ হয়েছে ৷
রোববার থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো বনবিভাগ। বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করবে ৷ পাশাপাশি মহাজন ও সুদের টাকা নিয়ে পর্যটকবাহী ট্রলার মেরামত করছে ট্রলার মালিকরা।
এতোদিন ট্রলারগুলো বসে থাকার কারণে লোনা পানির পোকা কাঠগুলো খেয়ে ফেলেছে বললে চলে৷ আমরা আমাদের ট্রলার মেরামত করতে সমিতি থেকে ঋণের টাকা উঠায়ে ট্রলার মেরামত করাচ্ছি এমন কথা বলেন, বুড়িগোয়ালিনী ট্রলার মালিক নূর ইসলাম। ৩ মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা না দিলে আমাদের কাল সমিতির ঋণের বোঝা মাথায় চাপতো না। পাস ছাড়ার পর যে টাকা আয় করবো সমিতির ঋণের টাকা শোধ করতে নিজেদের ছেলে মেয়েদের খেতে দিতে পারবো কি না জানি না ৷
দাতিন খালি এলাকার জেলে জাহাঙ্গির সানা জানান, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া আহরণ করা বন্ধ ছিল ৩ মাস৷ সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় জেলে বাওয়ালীদের সুদ করে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে কামাল গাজী বলেন, ৩ মাসে আমি প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে সংসার চালিয়েছি ৷ পাস ছাড়লে কামায় করে ঋণ শোধ করবো আশা আছে।
একাধিক জেলেরা জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকার ১০০% এর ৫২% ভাগ বন্ধ। খোলা আছে আছে ৪৮% । আমাদের দাবি বাকী ৬০ % উন্মুক্ত করা হোক। কারণ সুন্দরবনের যে জায়গা গুলো অবমুক্ত রয়েছে। সে জায়গায় আমরা দুই থেকে তিন হাজার জেলে এই অল্প জায়গায় মাছ কাঁকড়া আহরণ করে আসিতেছি ৷ এই সল্প জায়গাতে আমরা সে ভাবে মাছ, কাঁকড়া পাইনা৷ চালান ওঠানো দায় হয়ে যায়।
যদি আমাদের অভয়ারণ্য এলাকা হলেও ভারতীয়দের সে সব এলাকা উন্মুক্ত ৷ তারা সেখানে মাছ মেরে নিয়ে যায় ৷ খালি আমরা পারি না৷
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার ফজলু গাজির বলেন, সুন্দরবনের মেঘনা খাল হতে ডেঙ্গিমারি খাল, লক্ষিখালী খাল, হরিখালী খালসহ দ্বিতীয় পাটে যে স্থান গুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার সুন্দরবনের সে স্থান ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাই। এছাড়া সাগর এলাকায় ৬৫দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবন এলাকায় ৯০দিন প্রবেশ বন্ধ থাকায় জীবিকার তাগিদে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজের জন্য চলে যেতে হচ্ছে ৷
অন্যদিকে জানা গেছে, ৩ মাস সুন্দরবন প্রবেশ বন্ধ থাকার কারণে সুযোগ বুঝে কিছু অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার সুযোগ পেয়ে থাকে৷
বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো। তা কাল থেকে শিথিল করা হয়েছে ৷ কাল থেকে পাস দেওয়া হবে৷ পাস নিয়ে জেলে বাওয়ালীরা ও পর্যটক ট্রলার পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশ করতে পারবেন।
জেএইচআর