বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি, কষ্টই নিত্যসঙ্গী বৃদ্ধা ফজিলা বেগমের

আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ০৩:০০ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে ৬০ বছর বয়সী বিধবা ফজিলা বেগমের জীবন কাটছে দুঃখ-কষ্ট আর অসহায়ত্বের সঙ্গে। ঠিক যেন জসীমউদ্দিনের কবিতার আসমানী ঘর—একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢুকে পড়ে, থাকার কষ্টের সঙ্গে খাবারের অভাবও রয়েই গেছে।

ফজিলা বেগমের স্বামী মারা গেছেন এক যুগ আগে। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন ছেলে ছিল। বড় ছেলে ইফতিখার ৫ বছর ও মেঝো ছেলে সোহেল ৪ বছর আগে মারা গেছেন। এখন তিনি একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলে জুয়েল ও নাতনী জান্নাতকে (১০) নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন।

ফজিলা বেগম বলেন, “গত ২২ বছর ধরে স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র ঘরে বসবাস করছি। যদি একটা সুষ্ঠু ঘর পেতাম, জীবনের শেষ বয়সে শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারতাম। কিন্তু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢুকে পড়ে, আর খাবারের অভাবও রয়েই গেছে। আমার পাশে কেউ নেই।”

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের টিনের চাল মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও কম্বলের ছাউনি। শৌচাগারেরও একই অবস্থার। বৃদ্ধা ফজিলা জানান, আশপাশের মানুষ যে খাবার দেয় তা দিয়েই দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে আছেন। একমাত্র ছেলে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার চিকিৎসা বা নাতনীকে খাওয়ানোও সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়রা বলেন, ফজিলা বেগম সত্যিই খুবই গরীব ও অসহায়। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তার জীবন কাটছে কঠিন কষ্টে। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য তার নেই।

এদিকে, গত ৩১ আগস্ট রাতে তার বাড়ি থেকে মোবাইল ও চাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফজিলা বেগম জানান, মানুষের কাছ থেকে ধার করে কিছু টাকা দিয়ে চাল কিনেছিলেন, যা রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন সিকদার বলেন, “বৃদ্ধা ফজিলা বেগম খুবই অসহায়। তার ভাঙা ঘরে বৃষ্টি ও শীতে অত্যন্ত কষ্ট হয়। তার থাকার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করা অত্যাবশ্যক।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, ফজিলা বেগমের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তার বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, “বৃদ্ধা ফজিলা বেগমের থাকার ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএইচ