ভেড়ামারা ৫০ শয্যা হাসপাতাল: চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে স্বাস্থ্য সেবা অচল

হেলাল মজুমদার, ভেড়ামারা প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে ভুগছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রসূতি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অভাবে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে ডাক্তার পদ ২৫টির মধ্যে ২১টি শূন্য, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদ ২৪টির মধ্যে মাত্র ৬ জন কর্মরত। হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মীও নেই। ফলে ভেড়ামারার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের ‘আপগ্রেডেশন অব উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স’ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে হাসপাতালকে ৫০ শয্যা করা হয়। আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনটি অপারেশন থিয়েটার (জেনারেল, গাইনি ও ক্যাজুয়াল) নির্মাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এগুলো কার্যকর হচ্ছে না। গত ৩ বছর আগে মাসে ৪০-৫০টি সিজার অপারেশন হতো; বর্তমানে এ সংখ্যা শূন্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে সাড়ে তিন বছর অস্ত্রোপচার বন্ধ। এখন আমরা ৪ জন চিকিৎসক ও ৬ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তবে রোগীর চাপ এত বেশি যে এক মাসের ঔষধ ১৫ দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

শূন্য পদগুলোতে রয়েছে—গাইনি, অ্যানেস্থেসিয়া, শিশু, নাক-কান-গলা, ডেন্টাল সার্জন, চর্ম ও যৌন রোগ, হৃদরোগ, চক্ষু। ফলে রোগীদের অনেককে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়, যা তাদের জন্য আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়ায়।

মোকারিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান মতি জানান, “আমার স্ত্রী প্রসূতি রোগী। এখানে সিজার করা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন করতে হলো, যা ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করেছে।”

ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। পদ পূরণ হলে স্বাস্থ্য সেবার মান আরও উন্নত হবে।”

উপজেলার একমাত্র আধুনিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে সেবা কার্যক্রম স্থবির। রোগী ও স্বজনরা বলছেন, সরকারিভাবে পদ পূরণ এবং জনবল বৃদ্ধি না হলে স্বাস্থ্য সেবার মান আরও খারাপ হতে পারে।

ইএইচ