সীতাকুণ্ডে বিলুপ্ত খাল পুনরুদ্ধারে নেমেছে বিএডিসি

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দখল ও দুষণে ১৭টি খালের বেশিরভাগই বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিন খননকাজ না হওয়ায় এসব খাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতায় ডুবে যাচ্ছে আবাদি জমি। এতে অনাবাদি হয়ে পড়ছে ফসলি জমি। 

এ অবস্থায় খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএডিসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোতে দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় রাস্তা-ঘাট, পুকুর-ডোবা ও কৃষিজমি। শত শত একর আবাদি জমি অকৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় বেকারত্ব ও খাদ্য সংকট দেখা দেয়। 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিকে আবাদযোগ্য করতে খাল খনন শুরু করেছে বিএডিসি।

ইতিমধ্যে কুমিরা খালের খননকাজ শেষ হওয়ায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মুরাদপুর, সৈয়দপুরসহ পৌরসভার একাধিক এলাকা। 

সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল খাল ও বারিয়াখালী খালে খননকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মুরাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, “বারিয়াখালী খালের মাধ্যমে মুরাদপুর, পৌরসভা ও বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু কয়েক যুগ ধরে খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। খালগুলো ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। স্লুইস গেট অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পশ্চিম অংশের খাল প্রায় বিলুপ্তির পথে।”

তারা আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরও ভাটেরখীল খালের কোনো চিহ্ন মেলেনি। স্থানীয় জমির মালিকরা খাল দখল করে আবাদি জমিতে পরিণত করেছেন। ফলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশিত না হয়ে তিন ফসলি জমি ডুবে যায়। এতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে না পেরে বেকারত্বে পড়েন।

বিএডিসির তত্ত্বাবধানে চলমান এই খননকাজে বারিয়াখালী খালকে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৫০ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীর এবং ভাটেরখীল খালকে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৫০ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীর করে পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান।

ইএইচ