তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের কালনীকান্দা ও রামপুর ইউনিয়নের চাড়িয়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে কালিয়ান নদী। এ নদীর ওপর একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।
সেতু না থাকায় স্থানীয়দের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থায়ীভাবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গালাগাঁও, রামপুর ও কামারগাঁও ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করেন। এ পথ দিয়েই চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালনীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়, চাড়িয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কাকুরা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। একইভাবে চাড়িয়া বাজার, চংনাপাড়া বাজার এবং আশপাশের বিভিন্ন দপ্তরের মানুষও সাঁকো পার হয়ে আসা-যাওয়া করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে উজান থেকে কচুরিপানা আসায় সাঁকো ভেঙে যায়, তখন ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানালেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
কালনীকান্দা গ্রামের আনারুল হক বলেন, “সেতু না থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।”
গড়পাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, “কালিয়ান নদীতে সেতু না থাকায় আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ পাড়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে পারে না।”
চরপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তকি জানায়, “প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষায় সাঁকো ভেঙে গেলে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়।”
এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আয়েশা আখতার বলেন, “কিছুদিন হলো আমি এখানে যোগদান করেছি। কালিয়ান নদীতে সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।”
ইএইচ