টাঙ্গাইলে ১২৪৭টি মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ১২৪৭টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ সৌন্দর্যে, পাশাপাশি মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে জোরেশোরে।

ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর দেবীর বোধন ও মহাপঞ্চমী, ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজা, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি হবে। 

বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং দোলা (পালকি) চড়ে ফিরে যাবেন।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১২৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

  • মধুপুরে ৫৯টি
  • ধনবাড়ীতে ৩৫টি
  • ঘাটাইলে ৭০টি
  • কালিহাতীতে ১৬৩টি
  • গোপালপুরে ৫৫টি
  • ভুয়াপুরে ৩৭টি
  • টাঙ্গাইল সদরে ২১৪টি
  • নাগরপুরে ১২৯টি
  • দেলদুয়ারে ১২৩টি
  • মির্জাপুরে ২৫৭টি
  • বাসাইলে ৭০টি 
  • সখিপুরে ৩৫টি 


জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পূজা উপলক্ষে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। জেলার মণ্ডপগুলোতে ৯৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও সাদা পোশাকের টিমও দায়িত্ব পালন করবে।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের কালিবাড়ি, থানাপাড়া, সাবালিয়া, রেস্ট্রিপাড়া, কলেজপাড়া ও প্যারাডাইসপাড়া পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কারিগররা দিন-রাত বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে।

কারিগররা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা অধীর আগ্রহে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের প্রতিমা বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। লাভ-লোকসান যাই হোক, বংশগত পেশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আনন্দ নিয়েই তারা এই কাজ করেন।

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল এবং পৌর এলাকার ১১০টি মণ্ডপে নগদ ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এ উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইএইচ