সিলেটে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা পাবে ৩০ লক্ষাধিক শিশু

সিলেট প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম

সিলেট বিভাগে বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে ৩০ লক্ষাধিক শিশুকে। সারা দেশে টাইফয়েড জ্বরের প্রাদুর্ভাব রোধে ১২ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

ইপিআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগে সিলেট জেলায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১ লাখ ৬২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নগরভবন সভাকক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিসি প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবী।

প্রধান অতিথি বলেন, “ভালো কাজ বাস্তবায়নের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষকদের সম্মান করেন, তাই শিক্ষকগণের ভূমিকা এই কর্মসূচিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ডা. মো. আনিসুর রহমান জানান, “প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ টাইফয়েড থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টিকা প্রদান করছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে এ কর্মসূচি শুরু হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর।”

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু এবং প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমানের সকল শিক্ষার্থীকে ১ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। কোনো শিশুকে টিকাদানের আওতার বাইরে রাখা হবে না।

দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মৃত্যু ঘটেছিল, যাদের ৬৮ শতাংশ শিশু।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টাইফয়েড জীবাণু স্যালমোনেলা টাইফি দ্বারা সৃষ্ট এবং মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ঝুঁকি বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাব যেখানে রয়েছে। আক্রান্ত হলে শুধু শারীরিক জটিলতা নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, টিকা প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন চলমান রয়েছে। ইপিআই ভ্যাক্সিনেশন অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতীতদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।

সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ইউনিসেফ সিলেট অঞ্চলের প্রধান দিল আফরোজা ইসলাম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. খালিদ বিন লুৎফর, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচ