ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ডিএন ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) বিএ ও বিএসএস শেষ বর্ষের পরীক্ষায় শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষার্থীদের নকল করার সুযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীরা বইয়ের ছেঁড়া পাতা বা পুরো বই খুলে বসে উত্তরপত্রে লিখছেন।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ৩১৫ জন পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করছেন।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
বইয়ের পাতা বেঞ্চের ওপর রেখে উত্তরপত্রে লেখা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তা প্রতিরোধ করতে তেমন উদ্যোগ নেননি।
পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক সাংবাদিকদের দেখে এগিয়ে আসেন। এই সময় কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কেন্দ্র তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, “আমার কেন্দ্র, আমি যা খুশি তাই করবো। আপনাদের এখানে আসতে কে অনুমতি দিয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “যাদের কোনো উপায় নেই, তারাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়, সনদ পাওয়া তাদের মূল লক্ষ্য। তাই পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছুটা ছাড় দিতে হচ্ছে।”
এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, “দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর নিকট ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন।”
এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষায় বিভিন্ন পরিমাণে টাকা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমি এসিল্যান্ড সাহেবকে পাঠাচ্ছি, তিনি গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) মেহেনাজ ফেরদৌস বলেন, “আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ইএইচ